নাবালিকা যৌন নিগ্রহ-কাণ্ডে রামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রমের গোবরডাঙার প্রধান স্বামী সত্যরূপানন্দ-কে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিল বারাসতের বিশেষ পকসো আদালত। শুক্রবার এই সাজা ঘোষণা করেছেন পকসো আদালতের বিচারক। সেই সঙ্গে অভিযুক্তের ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজা শুনিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ এই মামলায় স্বামী সত্যরূপানন্দ-কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তিন বছর ধরে বিচার প্রক্রিয়া চলার পর শুক্রবার দোষীর সাজা ঘোষণা হয় বারাসতের বিশেষ পকসো আদালতে। বারাসতের বিশেষ পকসো আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, যৌন নিগ্রহের এই ঘটনাটি ঘটে ২০২২ সালে। উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার রামকৃষ্ণ সারদা সেবাশ্রমের কর্ণধার স্বামী সত্যরূপানন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি আশ্রমে থাকা নাবালিকা আশ্রমিকের যৌন নিগ্রহ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের কুকর্মের অভিযোগ ওঠায় শেষে ২০২২ সালের অগস্ট মাসে এই গুণধর স্বামীজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয় স্থানীয় গোবরডাঙা থানায়। সেই অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে গোবরডাঙা থানার পুলিশ৷ অভিযুক্ত স্বামী সত্যরূপানন্দ-কে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনের 10 নম্বর ধারা এবং জুভেনাইন জাস্টিস অ্যাক্টে মামলা রুজু করে। তিন বছর ধরে মামলাটি চলে বারাসতের বিশেষ পকসো আদালতে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষী ছিলেন। এই সাক্ষীদের সাক্ষ্যদানের উপর ভিত্তি করে সাজা দেওয়া হয় অভিযুক্ত স্বামী সত্যরূপানন্দ-কে । এছাড়া বারাসত জেলা পুলিশও স্বামী সত্যরূপানন্দ-কে সাজা দিতে যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল বলেই জানা গিয়েছে। এই মামলায় সরকারি আইনজীবী হিসেবে ছিলেন দেবরঞ্জন ব বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিন সাজা ঘোষণা হওয়ার পর তিনি বলেন, “২০২২ সালে যখন এই ঘটনাটি ঘটে তখন গোটা দেশে কোভিড পর্ব চলছিল। তখনই নাবালিকা আশ্রমিকদের সঙ্গে এই জঘন্য কাজটি করেন স্বামী সত্যরূপানন্দ। পুলিশ, বাদী-বিবাদী, সব পক্ষের সহযোগিতায় মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পকসো অ্যাক্টের ১০ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত স্বামী সত্যরূপানন্দ-কে পাঁচ বছরের অশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছেন বিচারক। সেই সঙ্গে 20 হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের জেল। জুভেনাইন জাস্টিস অ্যাক্টে দোষীকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। দোষীকে সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে বারাসত জেলা পুলিশের মনিটরিং টিমের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।”

