আদালতে স্বস্তি পেলেন না পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক ৷ শনিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট নাগাদ তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ ৷ সেখান থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্য দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো ৷ কিন্তু আদালত আপাতত এই আবেদন খারিজ করে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে রায় দিয়েছে ৷ এই আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি পুলিশের জবাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে আদালত ৷ সফদরজং হাসপাতালে ওয়াংচুকের চিকিৎসায় কোনও হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি দিল্লি হাইকোর্ট ৷ বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণ বলেন, “সোনম ওয়াংচুক যদি মনে করেন চিকিৎসকদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারেন ৷ আমি নির্দেশ দিচ্ছি না ৷” আগামী ২৪ জুলাই ফের এই মামলার শুনানি ৷ বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণের পর্যবেক্ষণ, সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকরা অনশনকারী সমাজকর্মীর প্রতি সদা-সর্বদা নজর রেখেছে ৷ এটা বলা যায় না যে, তাঁর দৈহিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তি করা হচ্ছে ৷ যন্তর মন্তর থেকে অনশনরত ওয়াংচুককে যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা কেন্দ্রীয় সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা নয় ৷ বিচারপতি আরও জানান, ওয়াংচুকের স্ত্রী, তাঁর ভাই এবং তাঁর শ্যালককে সারাক্ষণ সমাজকর্মীর কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে ৷ এদিন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) চেতন শর্মা জানান, সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকরা সব দিক দিয়ে সোনম ওয়াংচুকের খেয়াল রাখছেন ৷ এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ৷ তখন আদালত জানায়, “চিকিৎসকরা সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসা করতে চাইলে সেক্ষেত্রে তিনি চাইলে তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন ৷” ওয়াংচুকের তরফে আইনজীবী কপিল সিবাল জানান, তাঁরা ওয়াংচুককে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে চান ৷ গত জুন সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু করেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ৷ গত ৬ জুন এই বিক্ষোভ মঞ্চে যোগ দেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ৷ পরে 28 জুন যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ মঞ্চে অনির্দিষ্টকালীন অনশন শুরু করেন তিনি ৷ ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে ৷ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, 20 দিনের অনশনে সাড়ে ৯ কেজি ওজন কমে গিয়েছে ওয়াংচুকের ৷ তাঁর রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রার দিকে খেয়াল রাখছেন চিকিৎসকরা ৷ শনিবার সকালে ২১ দিনের দিন পুলিশ জোর করে তাঁকে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে নিয়ে যায় ৷ সেখানে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে রয়েছেন তিনি ৷ সোশাল মিডিয়ায় দীপকের অভিযোগ, ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় গোলমাল বাধে ৷ সেই সময় প্রতিবাদীদের আটক করে পুলিশ ৷
বেসরকারি হাসপাতালে ওয়াংচুককে স্থানান্তরের আর্জি স্ত্রীর, খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে
Byবঙ্গনিউজ
Jul 19, 2026
banganews.net