দ্বিতীয় দফার ভোটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে ঢাকঢোল পিটিয়ে দাবি করেছিলেন নির্বাচন কমিশনের কর্তারা। আধা সেনা-পুলিশ মিলিয়ে লক্ষাধিক নিরাপত্তা কর্মীকে ভোট ময়দানে নামিয়ে, ১৪৪ ধারা জারি করেও শান্তিতে ভোট করাতে পারলেন না তাঁরা। বরং দ্বিতীয় দফার ভোট ফের তামাশায় পরিণত হল। রাজনৈতিক হিংসা আর রক্তঝরার সেই ট্র্যাডিশন বজায় রইল। দিনভর কমিশনের কাছে ভোটে অনিয়ম আর অশান্তি নিয়ে হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। অশান্তি পাকানোর দায়ে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তা সত্বেও ব্যর্থতার দায় কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অশঅন্তির ভোটকে শান্তিপূর্ণ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এদিন ভোটের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেই কমিশনের পছন্দের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জগমোহনকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) আরিজ আফতাব। নির্লিপ্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছাড়া দ্বিতীয় দফার ভোট শান্তিপূর্ণ ছিল। কমিশনের কাছে মোট ১ হাজার ৬০৫ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অশান্তি বাঁধানোর দায়ে ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় সকালের দিকে ইভিএম নিয়ে অভিযোগ এলেও পরে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।’ নন্দীগ্রামে ১৪৪ ধারা জারি সত্বেও কীভাবে একসঙ্গে প্রচুর মানুষ ভিড় জমালেন, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। অন্যদিকে, বয়ালের ৭ নম্বর বুথ নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ তুলেছেন তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখে আগামিকাল সন্ধে ছয়টার মধ্যে দিল্লিতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নন্দীগ্রামের সাধারণ পর্যবেক্ষক হেমেন দাস ও পুলিশ পর্যবেক্ষক আশুতোষ রায়কে নির্দেশ দিয়েছেন উপ নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন।

