‘ভোট চুরি’ নিয়ে এবার দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনছে ইন্ডিয়া শিবির ৷ সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনেই তাঁর অপসারণ চেয়ে এই প্রস্তাব আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন ৷ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি দিন কয়েক আগে ভোট চুরি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ করেন ৷ শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধীরা ৷ সংসদের দুই কক্ষেই আলোচনার দাবি জানিয়েছে তারা ৷ এমতাবস্থায় রবিবারের এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে রাহুলের অভিযোগ খারিজ করে কমিশন ৷ মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের মতে রাহুলের আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং দেশের সংবিধানের পক্ষে অপমানজনক ৷ নিজের অভিযোগের পক্ষে সাতদিনের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে না-পারলে রাহুলের দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মনে করেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার ৷ এখানে তৃতীয় কোনও বিকল্প নেই ৷ এমনই প্রেক্ষাপটে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ ৷ তিনি বলেন, “প্রয়োজন পড়লে আমাদের আইন মেনে গণতন্ত্রের মধ্যে থাকা সব ধরনের বিকল্পকে কাজে লাগাতে হবে ৷ কীভাবে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি ৷ তবে এমন একটা প্রস্তাব যে আনা হবে তা নিশ্চিত ৷” এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার সকালে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বৈছঠক করেন বিরোধী শিবিরের বেশ কয়েকজন সাংসদ ৷ সেখানে কয়েকজন সাংসদের প্রস্তাব, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে লড়াই শুরু হয়েছে তাকে আরও খানিকটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত ৷ সেক্ষেত্রে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব একটি কার্যকরী বিকল্প হতে পারে ৷ বিরোধীদের আনা অভিযোগের কোনও গ্রহণযোগ্য জবাব দেয়নি কমিশন ৷ এমতাবস্থায় অনাস্থা প্রস্তাব আনলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরালো হবে ৷ এদিনের বৈঠকে খাড়গের পাশাপাশি কংগ্রেসের কেসি বেনুগোপাল, এনসিপি-র সুপ্রিয়া সুলে, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার সঞ্জয় রাউত থেকে শুরু করে সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন ৷ সাংবিধানিক পদে থাকা কোনও ব্যক্তিকে সেখান থেকে সরাতে এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার কথা সংবিধানে বলা আছে ৷ সম্প্রতি দেশের একটি হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বিরুদ্ধেও এমন প্রস্তাব আনা হয়েছে ৷ গতবছর ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের বিরুদ্ধেও একই প্রস্তাব আনে বিরোধিরা ৷ এবার দেশের মুুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের বিরুদ্ধেও একই প্রস্তাব এলো ৷

