এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক শুরুর আগে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এক বছরের মধ্যে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় বৈঠক। এই বৈঠকে উভয় দেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, সীমান্ত বিরোধের বিষয়টিও সমাধান হবে বলে মনে হচ্ছে। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বৈঠক প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী জানান, উভয় দেশের লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে নজর দেওয়া৷ এই ক্ষেত্রে ভারত-চিন অংশীদার, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। ভারত ও চিনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উভয় দেশে বসবাসকারী 280 কোটি মানুষের উপকার করতে পারে। দুই দেশের মূল স্বার্থ তাদের মধ্যে থাকা পার্থক্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং উভয় নেতাই এ ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন যে, এই পার্থক্যগুলিকে বিরোধে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি জানান, সীমান্ত বিরোধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। মোদি-জিনপিং দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেছেন। এই ইস্যু সম্পর্কিত কিছু নীতির উপর জোর দিয়ে, প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখা এবং এর মসৃণ বিকাশের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থায়িত্বের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সামগ্রিক সম্পর্কের ব্যাঘাত এড়াতে ঐকমত্য হয়েছেন মোদি-জিনপিং। উভয় দেশ তাদের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উভয় দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থকে মাথায় রেখে সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে একটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। তাইওয়ানের বিষয়ে ভারতের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি সীমান্ত-আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি তোলেন। তিনি এই বিষয়টির উপর জোর দিয়ে জানান, এটি এমন একটি ব্যাধি যা চিন এবং ভারত উভয়কেই পীড়িত করেছে এবং ভারত এখনও এই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে এবং এই বিশেষ ইস্যুতে চিনের সমর্থন কামনা করেন। এই সমস্যা সমাধানে চিন বিভিন্ন উপায়ে তার সমর্থন জানিয়েছে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বিশ্ব বাণিজ্য স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে ভারত ও চিনের অর্থনীতির ভূমিকা এখানে উল্লেখিত হয়েছে। দুই রাষ্ট্রপ্রধান ফের ভারত-চিনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার জন্য উভয় দিকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সহজতর করার জন্য এবং নীতিগত স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক ও কৌশলগত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। মোদি-জিনপিং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বার্থ এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে এই সমস্ত বিষয়ে আরও অগ্রগতিতে সম্মত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি 2026 সালে ভারতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট শি-কে আমন্ত্রণ জানান। প্রেসিডেন্ট শি আমন্ত্রণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বে চিনের পূর্ণ সমর্থনের প্রস্তাব দেন।