বঙ্গভঙ্গের দাবি তুলে খবরের শিরোনামে এলেন যে সাংসদ, তাঁকেই কিনা প্রতিমন্ত্রীর পদ দিলেন নরেন্দ্র মোদি? তাহলে কি বাংলা ভাগে প্রচ্ছন্ন সায় রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীরও ? মদত রয়েছে তাঁর দল বিজেপিরও ? জন বার্লার মন্ত্রিপদ লাভে উঠছে এমনই সব প্রশ্ন ৷ বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ২১৩ টি আসনে জিতে ক্ষমতায় ফেরেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়৷ কিন্তু উত্তরবঙ্গে তৃণমূলকে জোর ধাক্কা দেয় বিজেপি ৷ একের পর এক আসনে ফোটে পদ্ম ৷ আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে জয়লাভ করেন বিজেপি প্রার্থী জন বার্লা ৷ সম্প্রতি বঙ্গভঙ্গের দাবি তুলে খবরের শিরোনামে উঠে আসেন তিনি ৷ জন বার্লার দাবি ছিল, উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য হিসাবে ঘোষণা করা হোক ৷ অথবা পশ্চিমবঙ্গের এই অংশটিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। স্বাভাবিকভাবেই একজন সাংসদের এমন মন্তব্যে চড়েছে রাজনীতির পারদ ৷ বিজেপির বিরুদ্ধে ফের একবার বাংলাকে ভাগ করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ সমালোচনার ঝড় উঠেছে নানা মহলে ৷ এই পরিস্থিতিতে ড্যামেজ কন্ট্রোলে প্রাথমিকভাবে মাঠে নামেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ তিনি জানান, জন যা বলেছেন, সেটা একেবারেই তাঁর ব্যক্তিগত মতামত ৷ দল এমন কিছু সমর্থন করে না ৷ কিন্তু পরবর্তীতে বিজেপির একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির গলায় শোনা যায় অন্য সুর ৷ জন বার্লার মতোই তাঁরাও পৃথক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের দাবিতে সরব হন ৷ কেউ কেউ আবার মানুষের আবেগের দোহাই দিয়ে পৃথক রাজ্য়ের দাবিকে প্রচ্ছন্নভাবে সমর্থন করেন ৷ যাঁদের মধ্যে অন্যতম নিশীথ প্রামাণিক৷ লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, কোচবিহারের সাংসদ নিশীথও বুধবার কেন্দ্রের নয়া রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন ৷ অভিজ্ঞ মহল বলছে, উত্তরবঙ্গ বিজেপিকে ভরিয়ে দিয়েছে ৷ তাই তাকেও পাল্টা উপহার দিতেই হত ৷ আর সেই কারণেই উত্তরের দু’জন প্রতিনিধিকে কেন্দ্রের রাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে ৷ কিন্তু জন বার্লা ছাড়া মোদি সরকারের কাছে অন্য কোনও বিকল্প কি ছিল না ? নাকি বঙ্গভঙ্গের ইস্যুকে আরও জোরদার করার বার্তা দিতেই জনকে বেছে নেওয়া হল ? তাহলে তৃণমূল যে অভিযোগ তুলছে, তা কি সত্যি ? তৃণমূলের দাবি, বাংলার ক্ষমতা দখল করতে না পেরে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি ৷ যেকোনও উপায়ে বাংলাকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে চাইছে তারা ৷ রাষ্ট্রপতি শাসনের জুজুও দেখানো হচ্ছে এই কারণেই ৷ এক্ষেত্রে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের অতিসক্রিয়তাকেও প্রমাণ হিসাবে তুলে ধরেছে বাংলার শাসকশিবির ৷ জন বার্লার মন্ত্রিত্ব লাভ সেই জল্পনাকেই আরও উস্কে দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ৷

