কয়েকদিন আগে অপর্ণা সেন সহ পরিবর্তনপন্থীদের একাংশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোলা চিঠি লিখেছিলেন । বুধবার তারই পালটা কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন কবীর সুমন আবুল বাশার যোগেন চৌধুরী অনামিকা সাহা হরনাথ চক্রবর্তী শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত পূর্ণেন্দু বসুরা । খোলা চিঠিতে নির্বাচনী হিংসার জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছিলেন অপর্ণা সেন । অভিনেত্রীপরিচালিকা বলেছিলেন ‘‘এই পরিবর্তন চাইনি । এদিন প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করা বুদ্ধিজীবীদের তরফ থেকে পালটা প্রশ্ন উঠল এই পরিবর্তন চাননি তো কী পরিবর্তন চেয়েছিলেন । পঞ্চায়েতে হিংসা তো নতুন ঘটনা নয় । বরং এক্ষেত্রে তাঁদের যুক্তি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে সহ্য করতে পারছেন না অপর্ণা সেনরা । সেই জায়গা থেকেই মমতা বিরোধিতা করছেন তাঁরা।এদিন কবীর সুমন বলেন ‘‘ভোটে গোলমাল হয় ভোট হয়ে যায় না ভোট করাতে হয় । নল দিয়ে ভোট হয় ৷ যেদিন থেকে বোধবুদ্ধি সেদিন থেকেই দেখছি । সবচেয়ে বেশি তৃণমূলকর্মীরা মারা গিয়েছে । সাদা থানের কথা ভুলি কী করে ৷ মমতাকে সহ্য করতে পারছেন না অনেকে । তারও নিশ্চয়ই কারণ আছে । পঞ্চায়েত ভোটে গোলমাল হবেই হবে । কবীর সুমন মাও সেতুংয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন ‘‘রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা বন্দুকের নল দিয়ে বেরিয়ে আসে । চিরকাল গোলমাল হয়েছে । 71 হাজারের বেশি বুথ । তাতে গন্ডগোল হয়েছে সামান্য কয়েকটি বুথে । এই হিংসাও কি সমর্থনযোগ্য না । আপনারা বলতে পারেন এই পরিবর্তন চাইনি । তাহলে কি পরিবর্তন চেয়েছিলেন আমাদের যদি অনুগ্রহ করে জানান তাহলে আমাদের আলোচনা করতে সুবিধা হবে । বরাবরই বুদ্ধিজীবীদের আড়াআড়ি বিভাজন দেখা গিয়েছে এই বাংলায় । এদিন ভোট হিংসা নিয়েও আরও একবার সেই ছবি দেখল বাংলা । একপক্ষ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করে আগে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে এই রক্তপাতের দায় নিতে হবে । আজ অন্য পক্ষ পালটা দিয়ে বলল এই পরিবর্তন চাননি তো কোন পরিবর্তন চেয়েছিলেন ।প্রসঙ্গত নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ে বলতে গিয়ে কয়েকদিন আগেই অশোক গঙ্গোপাধ্যায় অপর্ণা সেন কৌশিক সেনরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে যে খোলা চিঠি লিখেছিলেন তাতে তাঁরা বলেছিলেন ‘‘স্থানীয় পুলিশপ্রশাসনে ভরসা করেই চলতে হয় কমিশনকেন্দ্রীয় বাহিনীকে । রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই হিংসার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেন না । বিশিষ্টদের তরফ থেকে অপর্ণা সেন আরও একধাপ এগিয়ে বলেছিলেন সিপিএম যেটা করেছে সেটা অন্যায় ৷ তা আমরা ভুলিনি । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব তিনি অস্বীকার করতে পারেন না । পঞ্চায়েতে যে হিংসা হয়েছে যে রক্তপাতমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার দায় নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকেও ।