ইথানল মেশানো পেট্রল ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিনের কোনও ক্ষতি হয় না বা মাইলেজ কমে না বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার ৷ এই বিষয়টি নিয়ে দেশের তিনটি প্রধান গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাকে চিঠি দেবেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল ৷ সংস্থাগুলির কাছে তিনি E20 পেট্রল ব্যবহার নিয়ে নিশ্চয়তা চাইবেন বলে জানিয়েছেন ৷

দেশজুড়ে 20 শতাংশ ইথানল-মিশ্রিত পেট্রল (E20) কর্মসূচি চালুর বিরোধিতা করেছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল ৷ তাঁর অভিযোগ, এই ইথানল মেশানো পেট্রল গাড়ির মাইলেজের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে ৷ তিনি আরও জানিয়েছেন, ইথানল মেশানো পেট্রলের বিরুদ্ধে জনগণের ‘তীব্র প্রতিবাদ’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখবেন ৷ পাশাপাশি এই জ্বালানি ব্যবহার ঐচ্ছিক করার দাবি জানাবেন তিনি ৷

গত সপ্তাহে E20 ইথানল মিশ্রিত পেট্রল কর্মসূচি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে মিথ্যা বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং এর বিরুদ্ধে বিস্তারিত জবাব দিয়েছে ৷ E20 ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়া থেকে শুরু করে গাড়ির বিমা বাতিল এবং পরিবেশের ক্ষতির মতো বিভিন্ন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার ৷

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কেজরিওয়াল মারুতি সুজুকি, টয়োটা কির্লোস্কর এবং হিরো মোটোকর্প-এর নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, এই গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি জনসমক্ষে যা বলছে, তার সঙ্গে তাদের গাড়ির ‘ওনার্স ম্যানুয়াল’ বা নির্দেশিকায় থাকা তথ্যের মিল নেই ৷ কারণ, সম্প্রতি এই গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের E20 কর্মসূচিকে সমর্থন করেছে এবং জানিয়েছে এই পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির কোনও ক্ষতি হয় না ৷

কেজরিওয়াল বলেন, “আমি তাদের সবাইকে চিঠি লিখব ৷ তারা মিথ্যা বলেছে ৷ আমি সংস্থাগুলিকে বলব, আপনাদের ওনার্স ম্যানুয়ালে এক কথা বলা আছে, অথচ আপনারা বলছেন অন্য কথা ৷ আপনারা লিখিতভাবে জানান, যদি আপনাদের গাড়ির মাইলেজ 10 শতাংশেরও বেশি কমে যায়, তবে আপনারা কি গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দেবেন ?”

আপ প্রধানের আরও সংযোজন, “যদি গাড়িতে E20 পেট্রল ব্যবহারের ফলে গাড়ির কোনও ক্ষতি বা যন্ত্রাংশের ক্ষয়-ক্ষতি হয়, তবে কি আপনারা সেই যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের জন্য ক্ষতিপূরণ দেবেন ?”

এই তিনটি কোম্পানির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ৷ কেজরিওয়াল বলেন, “ভারতের প্রায় 30 কোটি গাড়ি ঝুঁকির মুখে রয়েছে ৷ কারণ সেগুলি E20-র উপযোগী (কমপ্লায়েন্ট) নয় ৷”

আপ প্রধান বলেন, “ভারতে 22 কোটি বাইক আছে, যা E20-র উপযোগী নয় ৷ এই বাইকগুলিতে E20 ব্যবহার করা যাবে না ৷ এছাড়া আট কোটি গাড়ি রয়েছে যেগুলি E20-এর উপযোগী নয় ৷ সরকারের জেদের কারণে 30 কোটি গাড়ি বিপদের মুখে পড়েছে; 31 কোটি গাড়ি শেষ পর্যন্ত বাতিল বা ‘স্ক্র্যাপ’-এ পরিণত হতে পারে ৷”

কেজরিওয়ালের আরও অভিযোগ, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ ভারতই প্রথম নয়— এই দাবি করে সরকার মানুষকে বিভ্রান্ত করছে ৷ তিনি বলেন, “এটা অর্ধেক সত্য ৷ ওইসব দেশে ইথানল মিশ্রণের মাত্রা সাধারণত E10-র নীচে থাকে। সাধারণ গাড়িগুলি E10 পর্যন্ত ইথানল মেশানো পেট্রল ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু তার বেশি নয় ৷” কেন্দ্রের কাছে তাঁর আর্জি, সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক ৷

গত সপ্তাহে, শিল্প ক্ষেত্রের শীর্ষ কর্তারা 20 শতাংশ ইথানল-মিশ্রিত পেট্রল (E20) ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে জানিয়েছেন, এই জ্বালানি কঠোর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, নতুন ও পুরনো— উভয় ধরনের গাড়ির জন্যই নিরাপদ এবং আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের উপর ভারতের নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে এই জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷

4 মে সরকারের ‘ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে’ আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়ার সিনিয়র এগজিকিউটিভ অফিসার (কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স) রাহুল ভারতী বলেন, “2023 সালের আগে (যখন E20-এর উপযোগী গাড়ি তৈরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল) যেসব গাড়ি তৈরি হয়েছে, সেগুলির মালিকদের উচ্চমাত্রার ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে চিন্তিত হওয়ার কোনও কারণ নেই ৷”

ভারতী বলেন, “আমরা E10 গাড়িতে (2023 সালের আগে প্রচলিত ছিল) E20 জ্বালানি ব্যবহার করে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছি এবং দুশ্চিন্তার মতো কোনও বিষয় খুঁজে পাইনি ৷”

টয়োটা কিরলোস্কার মোটর কান্ট্রি-র প্রধান ও এগজিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড গভর্ন্যান্স) বিক্রম গুলাটি ইথানলকে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ও অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসাবে উল্লেখ করেন ৷ তিনি বলেন, “আমদানিকৃত তেলের উপর নির্ভরতা কমায় এই জ্বালানি এবং ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করে ৷”

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে গুলাটি বলেন, “দু-তিন মাস আগে যা ঘটেছিল, তা ছিল একটি সতর্কবার্তা এবং জ্বালানি আমদানির কারণে আমরা যে ঝুঁকির মুখে থাকি, তার একটি অত্যন্ত জোরালো স্মারক ৷