জলপাইগুড়ি জেলার মেটেলি ব্লকের ইংডং চা-বাগানে কাছে মুরগি ধরতে গিয়ে কুয়োয় পড়ল চিতা। জানা গিয়েছে, মুরগি ধরতে এসে লাফ দিতেই ইংডং চা-বাগানের টুন্ডু লাইনের বাসিন্দা শুকনাথ গোয়ালায় বাড়ির কুয়োয় পড়ে যায় চিতাবাঘটি । এরপরেই খবর দেওয়া হয় বন দফতরকে । খুনিয়া রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান । শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সারাদিন কুয়োতে চিতাবাঘটি পড়ে থাকলেও কোনোভাবেই সেটিকে সেখান থেকে তোলা যাচ্ছিল না । পরিকাঠামোগত সমস্যা থাকার কারণে চিতাবাঘটিকে উদ্ধারে বিপাকে পড়েছিল বন দফতর । এরপর ডাক পড়ে ময়নাগুড়ি রোড পরিবেশ প্রেমী সংগঠনের । সংগঠনের সদস্যরা তাঁদের সরঞ্জাম নিয়ে গিয়ে কুয়ো থেকে দড়ির মাধ্যমে চিতাবাঘটিকে জালবন্দি করে । পরে ঘুমপাড়ানিগুলি করে চিতাবাঘটিকে কুয়ো থেকে তোলা হয় । ইংডং চা-বাগানের অশোক লাইনের বাসিন্দা সুনীতা গোয়ালা বলেন, “রাতেই চিতাবাঘটি কুয়োতে পড়ে যায় । আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি কুয়োর মধ্যে চিতাবাঘটি পড়ে রয়েছে । আমাদের বাড়ির মুরগি খাবার লোভে চিতাবাঘটি এসেছিল । কিন্তু মুরগি ধরতে না-পেরে কুয়োয় পড়ে গিয়েছে ।” ময়নাগুড়ি রোড পরিবেশ প্রেমী সংগঠনের সম্পাদক নন্দু রায়ের কথায়, “ইংডং চা-বাগানের একটি কুয়োয় চিতাবাঘটি পড়ে যায় । খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় বন দফতর । কিন্তু তারা কোনোভাবেই চিতাবাঘটিকে কুয়ো থেকে তুলতে পারছিল না । এরপর আমাদেরকে খবর দেওয়া হয় । আমরা আমাদের উপকরণ নিয়ে গিয়ে কুয়ো থেকে চিতাবাঘটিকে তুলে ফেলি । চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয় । সেখানেই চিতাবাঘটিকে রেখে পর্যবেক্ষণ করে শারীরিক পরীক্ষার পরে তাকে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের জঙ্গলে ছাড়া হবে ।”গরুমারার অতিরিক্ত বিভাগীয় বনাধিকারিক রাজীব দে বলেন, “মুরগি ধরতে গিয়েই কুয়োয় পড়েছিল চিতাবাঘটি । আমরা ঘুমপাড়ানি গুলি করে চিতাবাঘটিকে কুয়ো থেকে উদ্ধার করেছি ।”

