banganews.net

 ‘আইফোনের কিস্তির টাকা না-দিলে আমি ঝাঁপ দেব… পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে বাবা-মাকে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি ছেলের ৷ তিন ঘণ্টা এমন অশান্তি চলতে থাকে ৷ বাবা-মা বারবার অনুনয়-বিনয় করতে থাকেন ৷ কিন্তু তাতে পাত্তাই দিল না ছেলে ! এরপরই ছেলেকে বাঁচাতে বাবা হাত বাড়াতেই বেসামাল হয়ে দু’জনেই পড়ে যান নীচে ৷ ক’য়েক সেকেন্ডের মধ্যে শোকে পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন মাও ৷ শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একটি দামি আইফোন কিনেছিলেন ১৯ বছর বয়সি কুণাল। কিন্তু সেই ফোনের কিস্তির টাকা মেটানোর মতো সামর্থ তাঁর ছিল না। গতকাল কুণাল চানাগুড়ে তাঁর বাবা-মাকে তিসগাঁও শিভারার খাভালা পাহাড়ে জোর করে নিয়ে যান ৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল তিনজন পাহাড়ে যাওয়ার আগে তাঁদের বাড়িতে প্রচুর ঝামেলা হয় ৷ প্রতিবেশীরা অনেক রকমভাবে কুণালকে বোঝানোর চেষ্টা করেন ৷ কিন্তু, কোনও লাভ হয়নি ৷ শেষমেশ ওই কিশোর বাবা ও মাকে জোর করে পাহাড়ে নিয়ে যান ৷ পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা মুরলীধর চানাগুড়ে একজন ট্রাকচালক (৪৮)। মা সঙ্গীতা চানাগুড়ে, গৃহবধূ (৪২) ৷ পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির অবস্থা ভালো নয়। তিনি দু’দিন আগে বাড়ি ফিরেছিলেন। সেই সময় কুণাল বাবাকে বলেন, “আইফোনের কিস্তি দিতে পারিনি আমি।” বাবা বারবার ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন ৷ কুণাল তখন নাছোড়বান্দা ৷ শুরু হয় ঝামেলা-কথা কাটাকাটি ৷ এরপরই নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত ও হুমকি দিয়ে বাবা, মাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই কিশোর ৷ গতকাল পুলিশও খবর পেয়ে ওই পাহাড়ে পৌঁছয় ৷ আশপাশের লোকজনও সেই দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন ৷ অনেক রকমভাবে কিশোরকে বোঝানো হলেও তিনি কোনওভাবেই খাদের কিনারা থেকে সরে আসেননি ৷ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ আধিকারিকও বারাবার অনুরোধ করে খাদের ধার থেকে সরে আসতে ৷ কিন্তু কোনও তোয়াক্কায় করেননি কুণাল ৷ এরকম চলতে থাকে প্রায় তিন ঘণ্টা ৷ ইতিমধ্যেই এই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সোশাল মিডিয়ায় ৷

তাতে দেখা গিয়েছে, স্থানীয়রা তাঁকে বলছেন, তোর মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাক। তুই তো পড়াশোনা জানা ছেলে, তোর অনেক ভবিষ্যৎ রয়েছে। এমনকী কুণালকে শান্ত করতে উপস্থিত বাসিন্দারা তাকে আস্ত একটি ‘আইফোন ১৫ প্রো’ কিনে দেওয়ার প্রলোভনও দেন ! কিন্তু, কোনও লাভ হয়নি ৷ পুলিশ আধিকারিক রামেশ্বর পাটিল বলেন, “এরপর বাবা, ছেলের কাছে গিয়ে হাত ধরে পাহাড়ের ধার থেকে টেনে সরানোর চেষ্টা করেন ৷ তখন পাল্টা বাবার হাত সরিয়ে দেন ৷ ঠিক সেই সময়ই দু’জনেই ভারসাম্য হারিয়ে নীচে পড়ে যান। চোখের সামনে স্বামী ও সন্তানের মৃত্যু দেখে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মা সঙ্গীতাও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবন দেন ৷”

একটি আইফোনের জন্য তিনজনের জীবন গেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো পরিবার শেষ হয়ে গেল। তবে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ছিলেন বহু স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক এবং পুলিশ। তাঁরা নিজেদের ফোনে উদ্ধারকাজের ভিডিয়ো রেকর্ড করেন। কিন্তু পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন নীচে কোনও নিরাপত্তার জাল (Safety Net) বিছানো সম্ভব হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেটাগরিকরা ৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুণাল একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি দশম শ্রেণিতে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছিল। বর্তমানে নিট (NEET)- পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পড়াশোনায় মেধাবী হলেও, পারিবারিক অবস্থা যখন করুণ তখন গতবছরও তিনি একইভাবে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় তাঁর একটি আইফোন দরকার ছিল ৷ তখন একইভাবে পাহাড়ের খাদের ধারে দাঁড়িয়ে বাবা-মাকে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি ৷ এবার যখন সেই একই আইফোনের কিস্তির টাকা দিতে না পারায় এবার ফের নিজের জীবন শেষ করার চেষ্টা করেন কুণাল। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলে দু’জনেই পড়ে যান খাদে ৷ স্বামী-ছেলেকে পড়ে যেতে দেখে ঝাঁপ দেন কুণালের মাও ৷ মুহূর্তেই শেষ গোটা পরিবার ৷