১৩ বছরের নাবালিকা মেয়েকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবাকে গ্রেফতার করল পুলিশ । চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায়‌ । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম মিন্টু পাড়ুই । বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয় ৷ বিচারক ধৃতকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন । পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাড়োয়া থানা এলাকার বাসিন্দা মিন্টু পাড়ুইয়ের সঙ্গে বছরখানেক আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় । এরপর আরেক মহিলাকে বিয়ে করেন তিনি । সেই মহিলার আগের পক্ষের এক নাবালিকা কন‍্যা সন্তান রয়েছে । অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী বাইরে কাজে গেলে সেই সুযোগে মিন্টু তাঁর নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ করেন । সেই কুকর্মের কথা বাইরে কাউকে জানালে নির্যাতিতা নাবালিকা মেয়েকে সে প্রাণনাশের হুমকি দেন ৷ ফলে ভয়ে ওই নাবালিকা বাবার কুকর্মের কথা কাউকে জানাতে পারেনি । চুপ করে সহ‍্য করতে হয় তাঁকে । অভিযোগ, দিনে দিনে সৎ বাবার অত্যাচার বাড়তে থাকে । সুযোগ পেলেই নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ করতে থাকেন তিনি । সৎ বাবার অত্যাচারে একসময়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে । তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । তখন মাকে সৎ বাবার কীর্তির কথা সব খুলে বলেন নির্যাতিতা । সব শুনে তাজ্জব বনে গিয়েছেন ওই মহিলা । এদিকে, মেয়ের উপর স্বামীর যৌন হেনস্তার কথা জানতে পেরে মহিলা হাড়োয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন । সেই অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ‘কীর্তিমান’ সৎ বাবা মিন্টু পাড়ুইকে গ্রেফতার করে পুলিশ । ধর্ষক স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে সরব হয়েছেন নির্যাতিতার মা । শুধু তিনিই নন ! ধৃতের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মী মহম্মদ সালাউদ্দিন মোল্লাও । তিনি বলেন, “১৩ বছরের ওই নাবালিকাকে সৎ বাবা যেভাবে দিনের পর দিন অত‍্যাচার চালিয়েছে, তার নিন্দা করছি । বাবা-মেয়ের পবিত্র সম্পর্ককে অপবিত্র করেছে সে । এর কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার । নইলে সমাজে এই পবিত্রতা আরও অপবিত্র হবে । প্রশাসনের কাছে আমি দাবি করব, ধর্ষক এই সৎ বাবার যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় ।” অন‍্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট জেলার পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, “ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে । নির্যাতিতা নাবালিকার মেডিক্যাল টেস্ট হয়েছে । তাঁর গোপন জবানবন্দিও নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে ।”