কুরিয়ার ডেলিভারি বয়ের ছদ্মবেশে অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল ৷ বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তি কুরিয়ার ডেলিভারি করার অজুহাতে তরুণীর ফ্ল্যাটে ঢোকে ৷ এরপর অভিযুক্ত তরুণীকে ধর্ষণ করে ৷ শুধু ধর্ষণেই ক্ষান্ত হয়নি অভিযুক্ত ৷ অভিযোগ, নির্যাতিতার ফোনেই তরুণীর সঙ্গে সেলফি তুলেছে সে ৷ যাওয়ার আগে তরুণীর ফোনে হুমকি দিয়েছে, তিনি যেন অন্য কাউকে বিষয়টি না জানান এবং পুলিশেও খবর না দেন ৷ তাহলে তরুণীর ছবিগুলি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হবে ৷ পুনের জোন-৫-এর ডেপুটি কমিশনার রাজকুমার শিন্ডে বলেন, “অভিযুক্ত ভয় দেখিয়েছে তিনি যেন এই ঘটনা কাউকে না জানান ৷ সে লিখেছে ‘আমি আবার আসব’ ৷” পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মহারাষ্ট্রের পুনে শহরে কোন্ধওয়া এলাকার একটি হাউজিং সোসাইটিতে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৷ অভিযুক্তকে খুঁজতে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ৷ তরুণী শহরের একটি কলেজ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন ৷ এখন তিনি পুনের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন ৷ তাঁর ভাই শহরের বাইরে গিয়েছেন ৷ তাই ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে তরুণী একাই ছিলেন ৷ ডেপুটি কমিশনার রাজকুমার শিন্ডে বলেন, “কুরিয়ার সংস্থার ডেলিভারি বয়ের ছদ্মবেশে অভিযুক্ত অ্যাপার্টমেন্টে আসে ৷ সে ব্যাঙ্কের নথি ডেলিভারি করতে এসেছে বলে জানায় এবং এই অজুহাতে অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে পড়ে ৷ সে তরুণীর কাছে একটি নথিতে স্বাক্ষর করার জন্য পেন চায় ৷ তরুণী পিছন ফিরে পেন আনতে যাওয়ার সুযোগে অভিযুক্ত তাঁর ফ্ল্যাটের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে দেয় ৷ এরপরই ওই তরুণী জ্ঞান হারান ৷ ৮ টা৩০ মিনিটের সময় তাঁর জ্ঞান ফেরে ৷ তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয় ৷ এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিএনএস-এর ৬৪ (ধর্ষণের শাস্তি), ৭৭ (যৌন অপরাধ) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে ৷” পুলিশ আধিকারিক জানান, তরুণীকে অচেতন করতে অভিযুক্ত কী ব্যবহার করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ এক্ষেত্রে কোনও স্প্রে ব্যবহার করা হতে পারে, মনে করছে পুলিশ ৷ এলাকার একটি সিসি ক্যামেরা থেকে অভিযুক্তের ছবি চিহ্নিত করা গিয়েছে ৷ তার খোঁজে তল্লাশি চলছে ৷ পুলিশ আধিকারিক শিন্ডে বলেন, “স্কেচের মাধ্যমে সন্দেহভাজনের ছবি তৈরি করার চেষ্টা চলছে ৷ আমরা হাউজিং সোসাইটির সিসিটিভি ক্যামেরাগুলিও খতিয়ে দেখছি৷ তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ৷”


