মধ্য এশিয়ার অশান্তিতে কি কোভিডের ছায়া ! গৃহস্থের ঘরে এলপিজির সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ৷ আশ্বস্ত করেছে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও দেশে এলপিজি সরবরাহ আগের মতোই চলছে ৷ এর সঙ্গে সঙ্কটকালে এলপিজি’র কালোবাজারি বন্ধে পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ৷ সেই হিসেব প্রতিদিন দিচ্ছেন পেট্রেলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা ৷ এতদসত্ত্বেও রান্নার গ্যাসের অভাবে বিশাল সংখ্যায় পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্য থেকে নিজের গ্রামে ফিরছেন ৷ ঠিক যেমনটা হয়েছিল কোভিডকালে ৷ গুজরাতের সুরাতে ট্রেনে ওঠার জন্য দীর্ঘ লাইন পাঁচ বছর আগের সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে ৷ প্রতিদিন পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের তরফে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশের প্রয়োজনের সিংহভাগ এলপিজি সরবরাহ হয় ভারতে ৷ তাই হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় তার প্রভাব ভারতেও পড়েছে ৷ দেশের অভ্যন্তরে এলপিজি’র বিপুল চাহিদা মেটাতে একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ৷ কিন্তু মোদিরাজ্যের সুরাতের ছবি একেবারে উল্টো ৷ সেখানে এলিপিজি সিলিন্ডারের অভাবে রান্নাবান্না শিকেয় উঠেছে ৷ কাঠ জ্বালিয়ে রান্না করতে দিচ্ছেন না ভাড়াবাড়ির মালিকরা ৷ অগত্যা কাজকর্ম ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা ৷ সংবাসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কয়েকজন শ্রমিক জানালেন, তাঁরা বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরছেন ৷ কাজের অভাব নেই ৷ কিন্তু বিগত বেশ কিছুদিন ধরে রান্নার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না ৷ না খেলে কাজ হবে কী করে ?কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এলপিজির কালোবাজারি দমনের আশ্বাস মিললেও সুরাতে 500 টাকা প্রতি কেজি দরে এলপিজি গ্যাস বিকোচ্ছে ৷ তাই এই দামে রান্নার গ্যাস কিনে রান্না করা ভাবনারও অতীত ৷ খাওয়াদাওয়া নিয়ে বেজায় সমস্যায় পড়েছেন এখানকার পরিযায়ী শ্রমিকরা ৷এমনই এক শ্রমিক সচিন বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে আমরা গ্যাস পাচ্ছি না ৷ তাই গ্রামে ফিরতে হচ্ছে ৷ আমাদের কোম্পানিগুলিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৷ আমাদের কাছে টাকা নেই ৷ অতএব, ফিরে যাচ্ছি ৷ এখানে কেউ সাহায্য করছে না ৷ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তবেই ফিরে আসব ৷”আরেক পরিযায়ী শ্রমিক সীমা দেবী জানান, গত 15 দিন ধরে রান্নার গ্যাস জোগাড়ের চেষ্টা করেছেন ৷ কোনও ফল হয়নি ৷ তিনি বলেন, “গ্যাসের কারণে আমরা গ্রামে ফিরে যাচ্ছি ৷ আমাদের কাছে টাকাপয়সা নেই ৷ গত 15 দিন ধরে গ্যাস পাচ্ছি না ৷ এক সপ্তাহ আগে গ্যাস ফুরিয়ে গিয়েছে ৷ তারপর জানলাম, গ্যাসের আকাল হয়েছে ৷ গ্যাসের এজেন্সিতে গিয়েছিলাম ৷ এখনও গ্যাস পাইনি ৷ আমি মেয়েকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছি ৷ স্বামী ও দুই সন্তান এখানেই রয়ে গেল ৷ একটা ছোট্ট সিলিন্ডারও পেলাম না ৷”আরেক পরিযায়ী শ্রমিক কমল পাল জানালেন, এই অবস্থায় যে গ্যাসের বদলে কাঠের আগুনে রান্না করবেন, তাও হচ্ছে না ৷ ভাড়াবাড়ির মালিকরা তা করতে দিচ্ছে না ৷ তাহলে ঘরের ক্ষতি হতে পারে ৷ তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম 500 টাকা প্রতি কেজি ৷ আমরা কী করব ? গত চার দিন ধরে গ্যাসের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি ৷ কিন্তু কিছু পাইনি ৷ কাঠ জ্বালিয়ে রান্না করতে চাইছিলাম, কিন্তু বাড়ির মালিক করতে দিচ্ছে না ৷ সবকিছু ঠিকঠাক হলে ফিরে আসব ৷”শ্রমিকরা বলছেন যে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ফিরে আসবেন ৷ আপাতত তাঁদের এই হঠাৎ চলে যাওয়ায় টেক্সটাইল কোম্পানিগুলি শ্রমিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে ৷ এই সঙ্কটের কালে রফতানি ক্ষেত্রে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ৷ তাদের সাহায্যে কেন্দ্রীয় সরকার 497 কোটি টাকার প্যাকেজের ঘোষণা করেছে ৷ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুধু ভারতই নয়, সারা বিশ্বের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ তাঁর কথায়, “সময়ের পরীক্ষা দিচ্ছে ভারত এবং তার সঙ্গে পুরো বিশ্ব ৷ আমাদের রাষ্ট্রনেতারা একে অপরের সঙ্গে সমানে যোগাযোগ রেখে চলছেন ৷”
16 ও 17 মার্চ এলপিজি বোঝাই দু’টি জাহাজ শিবালিক ও নন্দাদেবী হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের গুজরাতে এসেছে ৷ ওই দু’টি জাহাজ মিলিয়ে 92 হাজার 712 মেট্রিক টন এলপিজি পৌঁছেছে দেশে ৷


