সম্প্রতি মিটেছে পঞ্চায়েত ভোট। নির্বাচন শেষ হতেই ভাঙন শাসকদলে। তৃণমূল ছাড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের জামাই ইয়াসির হায়দর। যোগ দিলেন কংগ্রেসে। শনিবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর উপস্থিতিতে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করতে দেখা গেল ইয়াসির হায়দরকে। আর কংগ্রেসে যোগদানের পরই প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে অধীর রঞ্জনের পাশে বসে তিনি বললেন, “আমি আগে যে দলে ছিলাম, সেখানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছিলাম না।” সঙ্গে আরও জানালেন, “তৃণমূলে যেমন দেখেন আপনারা তোলাবাজি-দুর্নীতি, এই কোনও কিছুর সঙ্গেই আমি যুক্ত ছিলাম না। আমি আমার সবটুকু দিয়ে কাজ করছিলাম। কিন্তু ২০১৯ কেন আমায় প্রার্থী করা হল না বুঝতে পারলাম না। উচ্চ-নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনও লাভ হল না।” এদিন ইয়াসেরের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ও কিছু না। কজন চেনে এঁদের!’ খুব কী ভুল বলেছেন কুণাল? আপনারা যারা এই খবরটা পড়ছেন তাঁরাও কেউ কোনওদিন ইয়াসেরের নাম শুনেছেন? চেনেন তাকে? দেখেছেন কোনওদিন রাজনীতির ময়দানে? উত্তর আপনারা নিজেরাই পেয়ে যাবেন। প্রসঙ্গত, রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের জামাই ইয়াসের  হায়দার। তিনি তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক। যদিও রাজনীতির ময়দানে না সেভাবে তাকে দেখা যায়, না সেভাবে কেউ তাকে চেনে। কার্যত তার থেকে এখন বেশি পরিচিতি পেয়ে গিয়েছে দেবাংশু এবং রাজন্যারা। একুশের ভোটের সময় বিধানসভার টিকিট না পেয়ে ফেসবুকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে মুখ খুলেছিলেন তিনি। আপ্রাণ ভাবে সেই সময় চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূলকে ড্যামেজ করতে। যদিও পারেননি। কেননা যাকে কেউ চেনে না জানে না তার কথায় কে কান দেবে! কার্যত তৃণমূলে সুবিধা করতে না পেরে এখন অধীরের হাত ধরেছেন যাকে কিনা বার বার দেখা যায় বিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে তৃণমূলের বিরোধিতা করতে।