নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল আটজনের বিরুদ্ধে ৷ পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের আলওয়ালে । পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, 16 বছর বয়সী ওই কিশোরী মাচা বোল্লারামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ইন্টারমিডিয়েট স্তরে পড়াশোনা করছে । দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ইনস্টাগ্রামে জেরি বরুণ নামের এক যুবকের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে । কয়েক মাস আগে জেরি তাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো চকলেট খাইয়ে নিজের গাড়ির ভিতরে যৌন নির্যাতন করে । এরপর জেরি ওই কিশোরীকে রোমালা বরুণ নামের আরেক যুবকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় । রোমালা তাকে মদ, সিগারেট ও গাঁজার নেশায় আসক্ত করে তোলে এবং কোম্পালি এলাকায় একাধিকবার যৌন নির্যাতন করে । জীবনযাপন নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে গত 8 সেপ্টেম্বর নাবালিকাকে বকাঝকা করেন তার বাবা । এর জেরে 9 তারিখ সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বোল্লারাম রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে পৌঁছয় । সেখানে তার সঙ্গে নীরজ নামের এক ব্যক্তির দেখা হয় । নীরজ তার বন্ধু ভিকিকে সেখানে ডেকে পাঠায় ৷ এরপর তারা দু’জনে মিলে মেয়েটিকে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতন করে এবং আলাদাভাবে যৌন নির্যাতন চালায় । এরপর নিখিল নামের আরেক বন্ধুর সহায়তায় কিশোরীকে দুলাপল্লিতে নিয়ে যায় ভিকি । সেখানে আরও দু’জন ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং একটি ‘ওয়ো’ (OYO) রুমে নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করে । শেষ পর্যন্ত 9 তারিখ রাতে মেয়েটিকে বোল্লারামে ভিকির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সেখানে আটকে রাখা হয় । এরপর দিন অর্থাৎ, 10 সেপ্টেম্বর কোনওক্রমে ভিকির বাড়ি থেকে পালিয়ে মেয়েটি বোল্লারাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছয় । কিন্তু ভিকি এবং তার আরেক বন্ধু গণেশ কিশোরীকে পথেই ধরে ফেলে ৷ জোর করে তারা ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় এবং মেদচাল রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যায় । সেখানে তারা কিশোরীকে মালকাজগিরিগামী একটি ট্রেনে তুলে আবার যৌন নির্যাতন করে । পরে, অটো রিকশায় করে ধুলপেটের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা তাকে ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় । সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পর মেয়েটি তার পরিবারকে পুরো ঘটনাটি জানায় এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে । পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে । 12 সেপ্টেম্বর জেরি বরুণ, রোমালা বরুণ, নীরজ, ভিকি, নিখিল ও গণেশ-সহ আটজনকে হেফাজতে নেওয়া হয় । ওই ওয়ো (OYO) হোটেলের মালিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। 13 তারিখে তাদের বিচারকের সামনে হাজির করা হয় এবং বিচারক রিমান্ডের আদেশ দেওয়ার পর চঞ্চলগুড়া সংশোধনাগারে পাঠানো হয় ।

