BJP আসতেই তোড়জোড়, কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সরছে  ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদকলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের অপারেশনাল এলাকার ভেতরে থাকা ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ অবশেষে স্থানান্তরিত করতে কাজ করছে শুভেন্দু সরকার। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এই মসজিদকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।মঙ্গলবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মসজিদ পরিদর্শন করেন। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দপ্তরে বৈঠকে বসেন প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা।কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা বিক্রম সিং বলেন, বিমানবন্দরের ভিতরে এই মসজিদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা তৈরি করছে। ফ্লাইট পরিচালনায় একাধিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিকে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মসজিদ ভেঙে ফেলার বিষয়টি শুধুমাত্র স্থানীয় কমিটির সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। তারা এই বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এবং জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের মতো সংগঠনের মতামতের উপর নির্ভর করতে চায়।

১৩৬ বছরের পুরনো মসজিদ

কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ের একেবারে কাছাকাছি অবস্থিত এই মসজিদ ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ নামে পরিচিত। অনেকের কাছে এটি ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। প্রায় ১৩৬ বছরের পুরনো এই ঐতিহাসিক ধর্মীয়স্থান বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশেষ করে বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের ঢিলছোড়া দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় বিমানের টেক-অফ ও অবতরণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিল বিজেপি

বিমানবন্দর সূত্রে খবর, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি বারেবারে আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর এই ইস্যুটি নতুন করে গতি পেয়েছে। বিজেপির তরফে বরাবরই ওই মসজিদ দাবি করা হয়ে আসছে। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যরা সেই দাবি তুলে আসছেন। মালব্য তো দাবি করেছিলেন, ‘অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে সেকেন্ডারি রানওয়ের কাছে অবস্থিত একটি মসজিদ। এটি নিরাপদ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক রানওয়ে যদি না চালু থাকে, সেক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতিতে ওই সেকেন্ডারি রানওয়েকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে (ওই মসজিদ)। তোষণ নীতির জন্য যাত্রীদের নিরাপত্তা বলি হতে পারে না।’