বারুইপুরের পর এবারউত্তর 24 পরগনার গাইঘাটা ! ফের এনকাউন্টারে মৃত্যু অভিযুক্তের । গাইঘাটায় নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে যৌন হেনস্থা ও খুনের মামলায় ধৃত যুবকের মৃত্যু হল পুলিশের এনকাউন্টারে । গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে বীভৎস নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় ধৃত বছর তেইশের যুবক প্রহ্লাদ দাস পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত বলে জানা গিয়েছে । উল্লেখ্য, দু’দিন আগেই ওই স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন ও খুনের অভিযোগে তার এক আত্মীয় প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করেছিল গাইঘাটা থানার পুলিশ । এই ঘটনাতেও অভিযুক্তকে নিয়ে রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি, সেই সময়ে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত যুবক। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। তাতেই গুলিবিদ্ধ হয় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে গাইঘাটা ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। গত জুলাই মাসে বারুইপুরে নাবালিকারে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলেরও মৃত্যু হয় একইভাবে পুলিশি এনকাউন্টারে ।গত 24 অক্টোবর পাড়ায় জলসা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল উত্তর 24 পরগনার গাইঘাটার এক নাবালিকা স্কুল পড়ুয়া । পরদিন অর্থাৎ রবিবার সকালে প্রতিবেশীর উঠোনে কিশোরীর অর্ধনগ্ন রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন ।গাইঘাটার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে মামার বাড়িতে থাকত নির্যাতিতা কিশোরী । সেখানে একটি স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ত সে । মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে । পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় । ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে গাইঘাটা থানার পুলিশ ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরীর বাড়ি গাইঘাটার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় । দুর্গাপুজো উপলক্ষে প্রতিবছর বিজয়া দশমীর পরে পাড়ায় জলসা হয় । পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার পাড়ার অন্য ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ওই কিশোরীও জলসা দেখতে গিয়েছিল । রাত 11টা নাগাদ ফোনে একটি কল আসতেই সে জলসা থেকে উঠে বেরিয়ে যায় ।এদিকে রাতে অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলেও কিশোরী আর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে । ওই কিশোরীর বন্ধু ও সহপাঠীদের বাড়িতে ফোন করলেও কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি । এরপর রবিবার সকালে প্রতিবেশীর উঠোনে ওই কিশোরীকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখা যায় ।ওইদিনই বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “স্থানীয় সূত্রে সকালে আমাদের কাছে খবর আসে একটি মেয়ের দেহ পড়ে রয়েছে । সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকর্মীরা সেখানে পৌঁছন । দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে । প্রাথমিক তদন্তে আমরা মনে করছি, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে । পরিবারের লোকেদের অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তদন্ত করা হচ্ছে ।”গতকাল নির্যাতিতা কিশোরীর বাড়িতে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসরিয়া । তিনি পরিবারকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন । সেখানে গিয়েছিলেন সিপিএমের গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির প্রতিনিধিরাও ৷ তবে পুলিশ কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে ঢুকতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ । সোমবার সাংবাদিকদেরও নিহতের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি । এই প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যম এই সব ঘটনা নিয়ে বাজার গরম করার চেষ্টা করে । তাই সাংবাদিকদেরও সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি ।’’ চলতি বছরের 5 জুলাই বারুইপুরে এক নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা সামনে আসে । অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলেরও মৃত্যু হয় পুলিশি এনকাউন্টারে ৷

