হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর ব্রোঞ্জ-নির্মিত 4500 বছরের পুরনো ‘নৃত্যরত নারী’র মূর্তিতে আপত্তি কেন্দ্রের ! কয়েক দশক ধরে দেশের স্কুল পাঠ্যপুস্তকে স্থান পেয়ে আসছে সিন্ধু সভ্যতার এই বিখ্যাত নিদর্শন ‘নৃত্যরত নারী’র মূর্তি ৷ তাতেই এবার পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্র ৷ ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)-এর প্রকাশিত নবম শ্রেণির শিল্পকলা বিষয়ক নতুন পাঠ্যপুস্তকে মূর্তিটিকে ভিন্ন রূপে দেখানো হয়েছে ৷ সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম বিখ্যাত এই নিদর্শনটিকে নতুন পাঠ্যপুস্তকে অপেক্ষাকৃত গাঢ় রঙে দেখিয়েছে NCERT ৷ এমনকী মূল মূর্তিতে যেখানে কোনও কাপড় ছিল না সেখানে শরীরের কিছু অংশ আবৃত অবস্থায় চিত্রিত করা হয়েছে ৷ জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) এবং জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামো (এনসিএফ)-এর আওতায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণির জন্য এনসিইআরটি-র চালু করা শিল্পকলা বিষয়ক পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে এই বইটি প্রকাশিত হয়েছে ৷ মূলধারার স্কুলশিক্ষায় শিল্পকলা শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য ৷ এখন পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকগুলো প্রকাশ করা হয়েছে ৷ মহেঞ্জোদারোতে আবিষ্কৃত মূল ব্রোঞ্জ মূর্তিটির উচ্চতা মাত্র 10.5 সেন্টিমিটার এবং এটি তার স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ৷ আবিষ্কৃত সেই মূর্তিটি নগ্ন অবস্থায় রয়েছে ৷ কেবল এক হাতে একাধিক চুড়ি ও গলায় একটি হার রয়েছে মূর্তির ৷ কিন্তু নতুন বইয়ে যে মূর্তির ছবি ছাপা হয়েছে সেখানেই গোল বেধেছে ৷ নতুন বইয়ে ছাপা মূর্তির দেহ আবৃত করা হয়েছে বলে দাবি ৷ এ বিষয়ে এনসিইআরটি (NCERT)-এর অধিকর্তা দীনেশ শাকলানির কোনও মন্তব্য অবশ্য মেলেনি ৷ অবশ্য এনসিইআরটি-র এক আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য টেক্সট বুক ডেভলপমেন্ট টিমের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই আধিকারিক বলেন, “বিষয়টি টিমের কাছে পাঠানো হয়েছে ৷ তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ৷ এর পিছনে কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ নেই ৷ ষষ্ঠ শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে অন্যান্য অনেক প্রত্নসামগ্রীর পাশাপাশি ‘ড্যান্সিং গার্ল’ বা নৃত্যরত নারীমূর্তিটিকে তার আসল রূপেই দেখানো হয়েছে।” মহেঞ্জোদারোর বিখ্যাত এই মূর্তিটির উপস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির ঘটনা এটাই প্রথম নয়। 2023 সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লির প্রগতি ময়দানে ‘ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম এক্সপো’-র উদ্বোধন করেন এবং অনুষ্ঠানের মাসকট হিসেবে ‘ড্যান্সিং গার্ল’-এর একটি সমসাময়িক সংস্করণ উন্মোচন করেন। সে সময় আয়োজকরা এই ম্যাসকটটিকে প্রাচীন মূর্তিটির একটি আধুনিক রূপায়ণ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যা প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীদের স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে ‘সমসাময়িক দ্বারপাল’-এর প্রতীক হিসেবে কাজ করছিল। তবে পাঁচ ফুটেরও বেশি উচ্চতার এই সংস্করণটি বেশ কয়েকজন ইতিহাসবিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক সমালোচনার মুখে পড়ে ৷ তাঁদের মতে, এটি মূল প্রত্নসামগ্রীটির চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটানো হয়েছিল ৷ যেখানে প্রাচীন ব্রোঞ্জ মূর্তিটি গাঢ় রঙের এবং গয়না ছাড়া সম্পূর্ণ নগ্ন, সেখানে মাসকটটির গায়ের রঙ ছিল অপেক্ষাকৃত ফর্সা এবং সেটিতে উজ্জ্বল গোলাপি রঙের ব্লাউজ ও অফ-হোয়াইট রঙের ওয়েস্টকোট পরানো হয়েছিল।

