২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছিলেন। অবশেষে আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়াতে তাঁরা নাম লেখান ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে। এবার তারই পুরস্কার হিসেবে ভারতের নতুন সংসদ ভবনে পৃথক কার্যালয় ও আসন পেলেন এই দলবদলু সাংসদরা। এর ফলে এই প্রথমবার লোকসভায় একটি পৃথক দল হিসেবে বসার সুযোগ পাচ্ছে এনসিপিআই। সোমবার বিকেলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বৈঠক শেষে সুদীপবাবু জানান, নতুন সংসদ ভবনে তাঁদের ২০ জন সাংসদের জন্য একটি পৃথক ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, লোকসভায় এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের নেতৃত্বে পুরনো তৃণমূলের ছাঁচই বজায় থাকছে। দলনেতা হচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। (যিনি পুরনো তৃণমূলেও লোকসভার দলনেতা ছিলেন, পরে তাঁর জায়গায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আনা হয়েছিল)। মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। (তৃণমূলে থাকার সময়ও তিনি কিছুদিন এই পদে ছিলেন, তবে ভোটের পর তাঁর জায়গায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফেরানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি)। উপ-দলনেতা হচ্ছেন বীরভূমের চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায়।
তৃণমূলের এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নিয়ে গঠিত এনসিপিআই এবারই প্রথম পৃথক দল হিসেবে লোকসভায় বসবে। স্পিকারের অনুমোদন পেয়ে তাঁরা ইতিমধ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে শামিল হয়েছেন। নতুন শিবিরের অংশ হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “এখন থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে এনডিএ জোটের অংশ হিসেবে একসঙ্গে কাজ করব।”
যেহেতু তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করছেন, তাই শাসক জোটের ট্রেজারি বেঞ্চের দিকেই তাঁদের আসন বরাদ্দ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে কৌশলগত কারণে এই ২০ জন সাংসদ বিজেপির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকে লোকসভায় বিরোধী দল হিসেবেই নিজেদের তুলে ধরার দাবিও বজায় রেখেছেন। শেষ পর্যন্ত কে কোন আসনে বসবেন, তা ঠিক করবে দলই।
আগামী ২০ জুলাই থেকে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ১৯ জুলাই সংসদের সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে এনসিপিআই এখনও লোকসভার অফিশিয়াল রেকর্ডে নথিভুক্ত হতে পারেনি। ফলে সর্বদলীয় বৈঠকে কাকলি-সুদীপরা থাকতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।
https://googleads.g.doubleclick.net/pagead/ads?gdpr=0&us_privacy=1—&gpp_sid=-1&client=ca-pub-3883827480466826&output=html&h=280&num_ads=1&adk=1615940185&adf=3665349835&abgtt=6&w=744&fwrn=4&fwrnh=100&lmt=1784015256&rafmt=1&armr=3&sem=mc&pwprc=5599529594&ad_type=text_image&format=744×280&url=https%3A%2F%2Futtarbangasambad.com%2Ftmc-rebel-mps-ncpi-new-office-lok-sabha%2F&fwr=0&pra=3&rh=186&rw=744&rpe=1&resp_fmts=3&asro=0&aimartd=4&aieuf=1&aicrs=1&fa=27&uach=WyJXaW5kb3dzIiwiMTAuMC4wIiwieDg2IiwiIiwiMTUwLjAuNzg3MS4xMTUiLG51bGwsMCxudWxsLCI2NCIsW1siTm90O0E9QnJhbmQiLCI4LjAuMC4wIl0sWyJDaHJvbWl1bSIsIjE1MC4wLjc4NzEuMTE1Il0sWyJHb29nbGUgQ2hyb21lIiwiMTUwLjAuNzg3MS4xMTUiXV0sMF0.&dt=1784015255795&bpp=1&bdt=996&idt=-M&shv=r20260713&mjsv=m202607070101&ptt=9&saldr=aa&abxe=1&cookie=ID%3D8a5f6f61229316c8%3AT%3D1781528107%3ART%3D1784015211%3AS%3DALNI_MZWdjrQi_DUjMAeeMzFe6mnDcgcLg&gpic=UID%3D0000146c7cb8761e%3AT%3D1781528107%3ART%3D1784015211%3AS%3DALNI_MbP_v1bxaERd860pnNw2EIBRsQUSQ&eo_id_str=ID%3De54a8a7ddab87b24%3AT%3D1781528107%3ART%3D1784015211%3AS%3DAA-AfjbQ_62lkUYCbztbcq6oBBgm&prev_fmts=0x0%2C744x280&nras=3&correlator=7801451742398&frm=20&pv=1&u_tz=330&u_his=4&u_h=1080&u_w=1920&u_ah=1040&u_aw=1920&u_cd=24&u_sd=0.8&dmc=8&adx=657&ady=4357&biw=2381&bih=1148&scr_x=0&scr_y=0&eid=31099618%2C31099471%2C95396251&oid=2&pvsid=2370963092897317&tmod=988288427&uas=1&nvt=1&ref=https%3A%2F%2Futtarbangasambad.com%2F&fc=1408&brdim=0%2C0%2C0%2C0%2C1920%2C0%2C1920%2C1040%2C2400%2C1148&vis=1&rsz=%7C%7Cs%7C&abl=NS&fu=128&bc=31&plas=596x1032_l%7C740x645_r&bz=0.8&ifi=4&uci=a!4&btvi=2&fsb=1&dtd=305
তবে স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) আশ্বস্ত করেছেন যে, তাঁদেরও এই বৈঠকে ডাকা হবে। সর্বদলীয় বৈঠকের আগেই এই ২০ জন সাংসদের কে কোথায় বসবেন, তা চূড়ান্ত করে জানিয়ে দেবেন স্পিকার। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের লক্ষ্যে ১৯ জুলাই কাকলি ঘোষ দস্তিদারসহ এই ২০ জন সাংসদকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছেন ওম বিড়লা।
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নথি অনুযায়ী, ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই বর্তমানে একটি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। তবে তৃণমূলের এই ২০ জন প্রভাবশালী সাংসদ যোগ দেওয়ায় এবং লোকসভায় আলাদা সংসদীয় ব্লক হিসেবে স্পিকারের স্বীকৃতি পাওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে দলটির গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল।

