বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় রদবদল ৷ দলের সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজালেন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ৷ আইটি সেলের দায়িত্ব থেকে সরানো হল অমিত মালব্যকে ৷ তাঁর জায়গায় এলেন দীপক মাস্কে ৷ অন্যদিকে, নীতিন নবীনের টিমে এবার বাংলা থেকে মনোজ টিগ্গা, মধুচন্দ্রা কর ৷ সোমবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাদের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল করেছে। দেলর বিভিন্ন পদে মুখের বদল করা হয়েছে ৷ সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদে আনা হয়েছে রাম মাধবকে ৷ পাশাপাশি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে স্মৃতি ইরানি এবং বিপ্লব দেবকে। নিতিন নবীন-এর নেতৃত্বাধীন নতুন দলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন বিনোদ তাওয়াড়ে, সুনীল বনসল, বিপ্লব কুমার দেব, স্মৃতি ইরানি, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র পাতিল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া। বিজেপির এই নতুন সর্বভারতীয় তালিকায় বিভিন্ন রাজ্য ও সামাজিক সমীকরণের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ডঃ মধুমন্দা কর-কে জাতীয় সহ-সভাপতি এবং আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে জাতীয় সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, উত্তর-পূর্ব ভারতের দায়িত্ব ডঃ সংবিত পাত্রকে এবং একাধিক অভিজ্ঞ প্রাক্তন মন্ত্রী ও নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএল সন্তোষ সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হিসেবেই নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। কোষাধ্যক্ষ করা হচ্ছে পীযূষ গোয়েলকে। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়াকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। বিজেপি সূত্রে খবর, এই রদবদলের লক্ষ্যই হল নতুন প্রজন্মের নেতাদের সামনে নিয়ে আসা ৷ একই সঙ্গে, মহিলা প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নয়া কমিটিতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে ৷ আসন্ন নির্বাচনের জন্য কৌশল তৈরিও করবে এই নয়া কমিটি।
নয়া কমিটিতে কে, কোন পদে
স্মৃতি ইরানি: দলের শীর্ষ কমিটিতে প্রত্যাবর্তন ঘটছে তাঁর। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে তাঁকে।
রাম মাধব: সর্বভারতীয় সহ-সভাপতিদের মধ্যে একজন হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
বসুন্ধরা রাজে: মূল নেতৃত্বের তালিকায় তাঁকে বহাল রাখা হয়েছে ৷ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
দীপক মাস্কে: ছত্তিশগড় থেকে এনে তাঁকে নতুন আইটি সেল প্রধান করা হয়েছে।
সঞ্জয় ভাটিয়া ও হরিশ দ্বিবেদী: দলের ‘নতুন মুখ’ আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাঁদের নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিনোদ তাওয়াড়ে ও সুনীল বনসল: সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁদের শক্তিশালী অবস্থান সফলভাবে ধরে রেখেছেন।
অনিল বালুনি: ফের নিয়োগ করা হয়েছে তাঁকে ৷ দলের মিডিয়া-ইন-চার্জ হিসেবেও দায়িত্বে থাকবেন।
2026 সালের জানুয়ারিতে বিজেপির 16 তম জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন নিতিন নবীন ৷ এরপর এদিন দলের সাংগঠনিক রদবদল করেন তিনি ৷ দলের আইটি সেল প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অমিত মালব্যকে। তাঁর জায়গায় বিজেপির জাতীয় আইটি সেল ও সোশাল মিডিয়া প্রধান হিসেবে এসেছেন দীপক মাস্কে। ছত্তিশগড়ের বিশিষ্ট নেতা মাস্কে এর আগে বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি ৷ দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক আইটি সেলের কৌশল পরিচালনার দায়িত্বেও ছিলেন। বিজেপির সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে চার সদস্যের একটি ‘মার্গদর্শক মণ্ডলী’ (উপদেষ্টা পর্ষদ); এই দলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রবীণ নেতা এলকে আডবাণী ও মুরলি মনোহর জোশী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই চারজন দলের পথপ্রদর্শক মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেন এবং দলের প্রতি তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করেন।
মার্গদর্শক মণ্ডলীর পরেই রয়েছে 12 সদস্যের সংসদীয় বোর্ড, যার সভাপতিত্বও করেন মোদি। এই বোর্ডে মন্ত্রী এবং দলের প্রভাবশালী সাংগঠনিক নেতাদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নিতিন নবীন, রাজনাথ সিং, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল, ওবিসি সেলের প্রধান কে লক্ষ্মণ, পঞ্জাবের ইকবাল সিং লালপুরা, হরিয়ানার সুধা যাদব, মধ্যপ্রদেশের নেতা সত্যনারায়ণ জাটিয়া এবং বিএল সন্তোষ ৷
এর পরের স্তরে রয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি, যার সভাপতিত্বও করেন মোদি। এই কমিটিতে সংসদীয় বোর্ডের 12 জন সদস্যের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার প্রধান বনথি শ্রীনিবাসন। দলের 11 জন সহ-সভাপতিও রয়েছেন; তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বসুন্ধরা রাজে এবং সাংসদ বৈজয়ন্ত পাণ্ডা। এরপর রয়েছেন দলের আটজন সাধারণ সম্পাদক, যাঁদের কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।

