সম্পাদকীয়

নেই অভিজ্ঞতা, বিজেপি যোগেই কি ‘মোরবি সেতু’ রক্ষণাবেক্ষণ ওরেভা গ্রুপের হাতে! উঠছে প্রশ্ন

নেই কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা । তারপরেও, শতাব্দী প্রাচীন মোরবি সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বরাত পেয়েছে গুজরাতের ‘ওরেভা গ্রুপ’ (Oreva Group)। তাহলে কি পুরোটাই ঘটেছে রাজনৈতিক সংযোগের কারণে, উঠছে প্রশ্ন! রবিবার রাতে, মোদির রাজ্যে মোরবি সেতু দুর্ঘটনায় ১৪১ জনের প্রাণহানির পর এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ন্যাশনাল হেরাল্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের মার্চ মাসে সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ/পরিচালনার জন্য ১৫ বছরের বরাত দেওয়া হয়েছে আহমেদাবাদ ভিত্তিক সংস্থা ওরেভা গ্রুপকে। কিন্তু, এই কাজের জন্য কোনও অভিজ্ঞতাই এই গ্রুপের। জানা যাচ্ছে, আহমেদাবাদের ‘ওরেভা গ্রুপ’ মূলত ‘অজন্তা’ দেয়াল ঘড়ি তৈরির জন্য বিখ্যাত। এছাড়া এই সংস্থার গার্হস্থ্য সরঞ্জাম, টেলিফোন, ক্যালকুলেটর, এলইডি টিভি তৈরিতে দক্ষতা রয়েছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে তা উল্লেখও করেছে ‘ওরেভা গ্রুপ’। তবে লক্ষণীয়, এই সংস্থা ওয়েবসাইটে কোথাও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ অথবা পরিচালনার বিষয়ে নিজেদের দক্ষতার দাবি করেনি।

প্রসঙ্গত, আমেদাবাদ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ১৫০ বছরের পুরনো এই সেতু। টানা ৭ মাস ধরে সেতুটির মেরামতি হয়েছে। তারপরেও সেতুটি ভেঙে পড়া নিয়ে মোরবি পৌরসভার চিফ অফিসার জানান, ‘সেতুটি মোরবি পৌরসভার একটি সম্পত্তি। কিন্তু, কয়েক মাস আগে ১৫ বছরের মেয়াদে সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ওরেভা গ্রুপকে হস্তান্তর করেছি আমরা। যাইহোক, আমাদের না জানিয়েই দর্শনার্থীদের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দিয়েছে এই সংস্থা। তাই, সেতুটির নিরাপত্তা নিরীক্ষা করাতে পারিনি আমরা।’ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গুজরাট কংগ্রেসের মুখপাত্র মণীশ দোশি। তিনি বলেন, ‘সবকিছুই তাঁদের হাতে। ঘটনার পর পৌরসভা কেন কান্নাকাটি করছে? কেন তারা আগে পরীক্ষা করেনি?’ কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘কোম্পানীর মালিকের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠতা সর্বজনবিদিত। তারা বিজেপির একান্ত অনুগত।’ অন্যদিকে দোশি দাবি করেন, ‘গুজরাট সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা এই দুর্নীতির সাথে জড়িত’। তিনি বলেন, ‘ভাবুন তো একবার! একটি ঘড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাকে সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’এরপরে, মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্রভাই প্যাটেলকে নিশানা করে দোশি বলেন, ‘নগরোন্নয়ন মন্ত্রক মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে। এই ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। কারণ তিনি জানতেন যে, ঘড়ি তৈরির কোম্পানির এই ধরনের পরিকাঠামো পরিচালনা/রক্ষণাবেক্ষণের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।’কেন সেতুটি এখন চালু করা হয়েছে জানতে চাইলে দোশি জানান, ‘রাজনৈতিক লাভের জন্য।’ অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকার আজ ঘোষণা করেছে বিদেশ থেকে আগত হিন্দু, শিখ,  খ্রিস্টান সহ ৬ ধর্মের অমুসলিম সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।  এই প্রক্রিয়া হচ্ছে অবশ্য নাগরিকত্ব আইন- ১৯৫৫ অনুযায়ী। তবে এ রাজ্যে বিজেপি দাবি করছে, এটাই সিএএ কার্যকরের প্রথম পদক্ষেপ। আর তা নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্যের সমস্ত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল। বলা হচ্ছে, ব্রিজ দুর্নীতিতে দুর্ঘটনাকে ধামা চাপা দিতেই এই ‘ব্লু প্রিন্ট’। 

ফাইল চিত্র।