দিনভর উত্তপ্ত রইল জম্মু ও কাশ্মীর। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন পুলিস কর্মীরা! শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হলেন ওমর আবদুল্লা। একইসঙ্গে পুলিসের এমন ব্যবহারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। উল্লেখ্য, সোমবার সকালে শ্রীনগরে ‘শহিদ’দের কবরস্থান মাজার-ই-শুহাদায় সমর্থকদের নিয়ে প্রবেশ করতে যান জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। কিন্তু অভিযোগ, তাঁকে সেখানে প্রবেশ করতে বাধা দেন পুলিস কর্মীরা। কিন্তু যাবতীয় বাধা উড়িয়ে পাঁচিল টপকে কবরস্থানে প্রবেশ করেন ওমর। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। ওমর আবদুল্লা দাবি করেন, “গতকাল মাজার-ই-শুহাদা’য় প্রবেশাধিকার ছিল না। আজ কোন আইনে পুলিস আমাদের আটকে রাখছে। আমরা স্বাধীন রাষ্ট্রে বাস করি। কিন্তু ওরা মনে করে আমরা ওদের গোলাম। স্পষ্টভাবে আমি জানিয়ে দিতে চাই যে, আমরা কারও ক্রীতদাস নই, যদি আমরা কারও গোলাম হই তবে সেটা এখানকার জনগণের। আমাদের আটকানোর সবরকম চেষ্টা হয়েছিল। তবে তা আমরা ব্যর্থ করেছি।” ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “শহিদদের কবরস্থানে যাওয়াটা কি দোষের? এটা কেবল দুর্ভাগ্যজনকই নয়, এটা একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকারও হরণ করে। আজ সকালে একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে যা ঘটেছে তা কোনও মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লজ্জাজনক।” গোটা ঘটনার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা । এই ঘটনাকেই গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের সামিল বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সোশাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “শহিদদের কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া কোনও অপরাধ নয় । বরং একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে বাধা দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয় ।” প্রসঙ্গত, সদ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে ঘুরে গিয়েছেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী । তারপরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে এই বার্তা দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল । ঘটনার সূত্রপাত রবিবার, 13 জুলাই ৷ জম্মু-কাশ্মীরের ঐতিহাসিক শহিদ দিবস । 1931 সালের এই দিনেই ডোগরা শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন 22 জন সাধারণ নাগরিক । তাঁদের স্মরণে প্রতি বছর এই দিন মাজার-এ-শোহাদায় ফাতেহা পাঠের রেওয়াজ রয়েছে । ওমর আবদুল্লাহ জানান, “রবিবার আমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল । আজ সকালে কাউকে কিছু না-জানিয়ে মাজারে যাই । কিন্তু আজও আমাকে নিরাপত্তার নামে বাধা দেওয়া হয় । আমি জানতে চাই, কোন আইনের ভিত্তিতে আমাকে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো থেকে আটকানো হল ?” এই ঘটনার সময় ওমরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা ফারুক আবদুল্লাহ । ভিডিয়োতে দেখা যায়, পুলিশি অবরোধের মধ্যেই প্রাচীর টপকে শহিদদের কবরস্থানে প্রবেশ করেন ওমর । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় সরাসরি পুলিশের বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন । তাঁর কথায়, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার কথা যাঁদের, তাঁরাই যদি গণতান্ত্রিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেন, তবে সেটা দেশের পক্ষে বিপজ্জনক । ওমর আবদুল্লাহর মতো নেতাকে এভাবে বাধা দেওয়া দেশের সম্মানহানির সামিল ।”

