নয়াদিল্লি: অপারেশন সিঁদুর, পহেলগাঁও হামলা, বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR নিয়ে সংসদে আলোচনা করুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ এই দাবি তুলে চলতি বাদল অধিবেশনে সংসদে বেশ কয়েকবার হট্টগোল করেন বিরোধী সাংসদরা ৷ বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই এই নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ ৷ অবশেষে বিরোধীদের সেই দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্র ৷ ২৮ জুলাই, সোমবার লোকসভায় পহেলগাঁও হামলা এবং অপারেশন সিঁদুর নিয়ে চলবে সওয়াল-জবাব পর্ব ৷ কেন্দ্রের এই মান্যতাকে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধির জয় বলেই দেখছে কংগ্রেস ৷ রবিবার দলের তরফে জানানো হয়, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার দিন থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারে আলোচনার দাবি করছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি ৷ ভয়ঙ্কর সেই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয় ৷ অবশেষে, এই নিয়ে আলোচনায় কেন্দ্রের সায় মেলায় রাহুল গান্ধির জয় হল ৷ দেশ তথা বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দেয় পহেলগাঁও হামলা ৷ পাকিস্তানের মদতপুষ্ঠ জঙ্গিদের হামলায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠে যায় ৷ হামলার জবাবে ৭ মে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের 9টি জঙ্গি ঘাঁটিতে সামরিক অভিযান চালায় দেশের সামরিক বাহিনী ৷ নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’ ৷ তিন দিন অভিযান চলার পর ১০ মে সংঘর্ষবিরতি জারি করে ভারত ৷ কেন্দ্রের দাবি, পাকিস্তানের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ সংঘর্ষবিরতির কথা প্রথম ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷ আর এখানেই প্রশ্ন বিরোধী দল কংগ্রেসের ৷ তাঁদের প্রশ্ন, ভারত ও পাকিস্তান সরকারিভাবে এই বিষয়ে কিছু জানানোর আগে সোশাল মিডিয়ায় কেন পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ? সোশাল মিডিয়ার পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত হুমকি দিয়ে পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছেন তিনি ৷ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই দাবির সমালোচনা করে কংগ্রেস ৷ জানায়, দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে ট্রাম্পের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ তারপর থেকেই এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে ক্রমাগত আক্রমণ করে চলেছে কংগ্রেস ৷ উল্লেখ্য, ভারত-পাক সামরিক সংঘাতের সময় ইসলামাবাদকে সমর্থন করে চিন ৷ সেই নিয়েও সমালোচনা করে বিরোধী দল ৷ মোদি সরকারের বিদেশ নীতির ব্যর্থতা বলে কটাক্ষ করেন ৷ সেই সময়, রাহুল গান্ধি-সহ ইন্ডিয়ো ব্লকের নেতারা সংসদে বিশেষ অধিবেশনের দাবি তোলেন ৷ কিন্তু কেন্দ্র তাতে রাজি হয়নি ৷