ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবং অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া জারি রয়েছে ৷ আর সেই প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত এক হাজার একরের বেশি জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৷ মঙ্গলবার সোশাল মিডিয়ায় এখবর জানিয়ে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অত্যন্ত জরুরি কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে রয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স ৷ তাই তাদের হাতে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার গতিও বৃদ্ধি করেছে রাজ্য সরকার ৷ ইতিমধ্যেই সীমান্ত লাগোয়া নয়টি জেলায় মোট 172.6 কিলোমিটার এলাকা জুড়ে 1,024.75 একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে হস্তান্তর করা হয়েছে ৷ সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা ও জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল ৷ এই বিষয়ে জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সোশাল মিডিয়া এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং আমাদের সীমান্তকে আরও শক্তিশালী করা আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ৷ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে নিরাপদ করার অঙ্গীকার রক্ষার্থে, আমরা প্রয়োজনীয় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত সম্পন্ন করছি ৷” প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক সীমান্ত জেলা জুড়ে এই জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৷ জেলাভিত্তিক খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায় ৷ সেখানে 45.4 কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা জুড়ে মোট 337 একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৷ এরপরেই রয়েছে উত্তর 24 পরগনা, সেখানে 42.07 কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বরাবর 241.03 একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে ৷ উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে 39.39 কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে 135.33 একর জমি কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজের জন্য দেওয়া হয়েছে বিএসএফ-কে ৷ অন্যান্য সীমান্ত জেলাগুলির মধ্যেও জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করা হয়েছে ৷ মালদা জেলায় 20.15 কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার জন্য 176.78 একর জমি দেওয়া হয়েছে ৷ নদিয়ায় 14.79 কিলোমিটার এলাকায় 95.11 একর জমি বিএসএফ-কে দিয়েছে রাজ্য সরকার ৷ এছাড়া দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় 7.75 কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার জন্য 26.41 একর জমি চিহ্নিত করে তা বিএসএফ-কে দেওয়া হয়েছে ৷ দার্জিলিং জেলায় 1.45 কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার জন্য 4.31 একর এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায় 1.28 কিলোমিটার এলাকা জুড়ে 6.61 একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে ৷ জলপাইগুড়ি জেলায় 0.31 কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার জন্য দেওয়া হয়েছে 2.17 একর জমি ৷ সব মিলিয়ে রাজ্যের মোট নয়টি সীমান্তবর্তী জেলায় মোট 172.6 কিলোমিটার জুড়ে এই বেড়া নির্মাণের কাজ করা হবে ৷ দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কিছু এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না-থাকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো ৷ জমি জটের কারণে অনেক জায়গাতেই বেড়া দেওয়ার কাজ থমকে ছিল ৷ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নয়া রাজ্য সরকারের দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ফলে সেই বাধা ক্রমশ দূর হচ্ছে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত করার কাজ অনেকটাই এগোচ্ছে ৷

