ককরোচ জনতা পার্টির পথ ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করল ‘পাখণ্ডি জনতা পার্টি’। আপাতত ফেসবুকে একটি গ্রুপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গ্রুপে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার সদস্য যুক্ত হয়েছেন। রাতদিন–সাতদিন আমিষ–নিরামিষ নিয়ে চর্চা চলছে। অতি সম্প্রতি কলকাতায় এসে বাগেশ্বর বাবা নামে ধর্মগুরু দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালির মাছ–মাংস খাওয়ার বিরোধিতা করে তাঁদের ‘পাখণ্ডি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রুপ তৈরি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। গ্রুপে বেশ কিছু সদস্য ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, পুজোর সময়ে আমিষ খেয়েই উদযাপন করবেন ‘পাখণ্ডি’ হওয়া। তবে গ্রুপে নিরামিষ–পন্থী মানুষও রয়েছেন। অন্যতম অ্যাডমিন তুলিকা বর্মন বলেন, ‘আপাতত খিল্লি (মজা) করাই উদ্দেশ্য। সিজেপির মতো বড় কোনও পরিকল্পনা নেই। সবাই অভিমত দিচ্ছেন।’ ঘটনা হলো, দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির সফল আন্দোলনের পর থেকেই নানা বিষয় সামনে রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হচ্ছে পরের পর ‘জনতা পার্টি’। যেমন পেট্রলের সঙ্গে ইথানল মেশানোর প্রতিবাদে তৈরি হয়েছে ‘ইথানল জনতা পার্টি’। ১৫ অগস্ট লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘দিমাগি নকশাল’ বলার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসেছে ‘দিমাগি নকশাল জনতা পার্টি’। আর এ বার বাংলায় তৈরি হলো ‘পাখণ্ডিজনতা পার্টি।’ কেন এই ট্রেন্ড? রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করছেন। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কথায়, ‘এর থেকে প্রমাণিত হয় মানুষ বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যানের মুডে চলে গিয়েছেন। বিভিন্ন সেক্টর বিজেপির উপরে এতটাই বিরক্ত যে তারা যখনই মানুষের উপরে কিছু চাপিয়ে দিতে চাইছে তখনই একটা করে জনতা পার্টি তৈরি হচ্ছে।’ সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক রাজনীতি অনেক সহজে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তার বৃদ্ধিও হয় তাড়াতাড়ি। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই এমন অ্যাক্টিভিটি হচ্ছে। তাঁর মূল্যায়ন, ‘আসলে এই সব ক’টাই একটা প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করছে। সরকারি নানা সিদ্ধান্তে সব চেয়ে বেশি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, নতুন প্রজন্ম। তাঁরা একত্রিত হচ্ছেন নিজেদের মতো করে। প্যারডির মাধ্যমেই সরকার ও সরকারি দলের উপরে চাপ তৈরি করতে চাইছেন।’ তিনি মনে করেন, প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের উপরে শুধু ভরসা না রেখে দলীয় আনুগত্যের বাইরেও যে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই সব সোশ্যাল মিডিয়া পেজ, অ্যাকাউন্ট, গ্রুপগুলি। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অবশ্য এ সবে পাত্তা দিতে নারাজ। তাঁর কথায়, ‘সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে রাজনীতি হয় না। যাঁরা ট্রেনে–বাসে, চায়ের দোকানে আছেন—তাঁরা এ সবের নামও শোনেননি।’ কিন্তু সিজেপি যখন তৈরি হয় তখনও মনে করা হয়েছিল কোনও প্রভাব থাকবে না। কিন্তু সেই আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল দিল্লি এবং দেশের নানা শহর। পদত্যাগে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফলে ‘পাখণ্ডি’–দের কি দেবজিৎ অকারণে উপেক্ষা করছেন? তাঁর উত্তর, ‘এটা (পাখণ্ডি) ওটার (সিজেপি) মতো হবে না। আর যদি হয়, যদি কোনও রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত হয় তার উপরে নজর রাখার জন্য পুলিশ–প্রশাসন আছে, সর্বোপরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আছেন।’

