প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিন দিনের সফরের প্রথম পর্যায়ে জর্ডনের রাজধানী আম্মানে পৌঁছেছেন। জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করেছেন। জর্ডনের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন আল হুসেনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই সফরে গিয়েছেন। এটি অতিরিক্ত গুরুত্ব লাভ করেছে কারণ, ভারত ও জর্ডনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৭৫ তম বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারত-জর্ডন সম্পর্কের সমগ্র দিক পর্যালোচনা করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ঘটনাবলী নিয়ে মতবিনিময় করতে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বিন আল হুসেনের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর ভারত-জর্ডনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আম্মানে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মোদি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ লিখেছেন, তিনি জর্ডনে আসতে পেরে আনন্দিত এবং বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী মোদি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন যে এই সফর ভারত ও জর্ডনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। ভারত-জর্ডন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সফরকে নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি জর্ডনে বসবাসরত ভারতীয়দের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী জর্ডন, ইথিওপিয়া এবং ওমানে তিন দিনের সফরে গিয়েছেন। এই তিনটি দেশের সঙ্গেই ভারতের বহু পুরোনো সভ্যতাগত সম্পর্ক এবং ব্যাপক সমসাময়িক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এটি জর্ডনে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সফর। 2018 সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যালেস্তাইন সফরের সময় মোদি জর্ডনে সংক্ষিপ্ত সময়ের এসেছিলেন। জর্ডন সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি 16 থেকে 17 ডিসেম্বর ইথিওপিয়া সফর করবেন, যা এই দেশে তাঁর প্রথম সফর হবে। আদ্দিস আবাবায় তিনি ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী ইথিওপিয়ার সংসদের একটি যৌথ অধিবেশনেও ভাষণ দেবেন বলে কথা রয়েছে। আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরও রয়েছে।

