ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং । দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতে এসে জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পারস্পরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং একে অপরকে সমর্থনের ওপর জোর দেন। এদিনের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের মতো জটিল বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মোদি চিনের প্রেসিডেন্টকে ভারত সফরের জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পাশাপাশি, ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকালে চিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। মোদি বলেন, ‘আপনাকে উষ্ণ স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ব্রিকস সম্মেলনে আপনার ইতিবাচক মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকালে চিনের কাছ থেকে যে সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়া গিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমাদের সামনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’ অন্যদিকে, জিনপিং জানান যে তাঁদের বিগত ২১টি সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক সুদৃঢ় পথে এগিয়ে চলেছে। চিনা প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘আমার জন্মদিনে আমি ভারতে আসার আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। এখনও পর্যন্ত আমাদের ২১ বার সাক্ষাৎ হয়েছে। আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি, যা চিন-ভারত সম্পর্ককে স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। চিন সবসময়ই কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে দেখেছে ও গড়ে তুলেছে। যদিও আমাদের দুই দেশের জাতীয় পরিস্থিতি ভিন্ন, তবুও আমরা একে অপরের শক্তি থেকে পুরোপুরি শিক্ষা নিতে পারি, একে অপরকে সহায়তা করতে পারি, যৌথভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারি এবং অভিন্ন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারি।’ বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জিনপিং জানান, বিশ্বের দুই সর্বাধিক জনবহুল দেশ হিসেবে ভারত ও চিনের দায়িত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্ব শান্তি, স্থায়িত্ব এবং উন্নয়নের স্বার্থে দুটি দেশকে যৌথভাবে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। বৈঠক শেষে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন (India-China Relations)। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা যে গোটা সম্পর্কের উন্নতির প্রধান শর্ত, তা আবারও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতেই আগামী দিনে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চিনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মাসে বেজিংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের মধ্যে বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের বৈঠক হয়।

