আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতে অশান্ত পশ্চিম এশিয়া। ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে যার প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-র এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীয়ূষ গোয়েল, কিরেন রিজিজু ও জে পি নাড্ডা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বন্দর, নৌপরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেওয়াল। তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং সরকারের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৬০ শতাংশই পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে। এই সমস্ত জ্বালানি আমদানির প্রধান সামুদ্রিক পথ হল ‘স্ট্রেইট অফ হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালী। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে ইরান এই কৌশলগত জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই সরকারের শীর্ষস্তরে এই বৈঠক হয়। পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানিতে কতটা প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেলে দেশে যাতে তেল ও গ্যাসের জোগান নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সেজন্য ভারতের প্রস্তুতি এবং আগাম পদক্ষেপের বিষয়গুলি আলোচনা হয় বৈঠকে। তবে সেখানে নেওয়া সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সরকারের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।