অবশেষে জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করল পুলিশ ৷ সূত্র মারফত খবর পেয়ে শনিবার জুলপিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে সূত্রের খবর । জানা গিয়েছে, 16 জুন মঙ্গলবার ফলতা থানায় হামলা, উত্তেজনা ছড়ানো এবং অভিযুক্ত জাহাঙ্গির খানকে জোর করে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রে রেজিনা বিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল । পুলিশের দাবি, অশান্তির ঘটনার পিছনে সুপরিকল্পিত একটি চক্র সক্রিয় ছিল । সেই চক্রের অন্যতম সংগঠক ছিলেন রেজিনা বিবি । অভিযোগ, তিনি নিজেই একদল লোকজনকে সংগঠিত করে থানায় নিয়ে আসেন এবং জাহাঙ্গির খানকে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন । পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একসময় তা পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে পরিণত হয় । তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার সময় থানার বাইরে এবং ভিতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয় । পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করারও অভিযোগ রয়েছে । পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ ।এই ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন। ঘটনার পরই থানায় দায়ের হয় একাধিক মামলা । রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে আগেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল । তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রয়েছে । খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বলেছিলেন থানায় যারা হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করতে হবে ৷ শুধু তাই নয়, নতুন করে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে । তদন্তকারীদের দাবি, থানা ঘেরাওয়ের সময় হামলাকারীদের হাতে বিপজ্জনক অস্ত্র এবং বিস্ফোরক জাতীয় সামগ্রী থাকার ইঙ্গিত মিলেছে । সেই সূত্র ধরেই আরও গভীর তদন্ত শুরু করে পুলিশ । ঘটনার পর থেকেই রেজিনা বিবি আত্মগোপন করে ছিলেন । সম্ভাব্য একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও প্রথমদিকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি । অবশেষে গোপন সূত্রে খবর আসে যে তিনি জুলপিয়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছেন । সেই খবরের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ । পরিকল্পনামাফিক অভিযান চালিয়ে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই তাকে আটক করা হয় । তদন্তকারীদের অনুমান, রেজিনা বিবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে । বিশেষ করে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কারা, কারা অর্থ বা অন্য সাহায্য করেছিল এবং ঘটনার দিন কারা সক্রিয়ভাবে হামলায় অংশ নিয়েছিল সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মিলতে পারে । ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে । পুলিশের একাংশের মতে, এই হামলা শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে আইনকে প্রভাবিত করার একটি সংগঠিত চেষ্টা । সেই কারণে গোটা ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে । আইনশৃঙ্খলা ভাঙার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন । তদন্ত যত এগোবে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে । ফলতা থানা হামলা-কাণ্ডে রেজিনা বিবির গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে তদন্তে নতুন মোড় ৷ পুলিশের আশা, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে ঘটনার পিছনের বড় চক্রকে দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে ।