মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা থানায় হামলার ঘটনায় জোরদার হয়েছে পুলিশি অভিযান । বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালিয়ে এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিয়ো ও স্থিরচিত্র খতিয়ে দেখে আরও আটজনকে গ্রেফতার করেছে ফলতা থানার পুলিশ । এর ফলে জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে ফলতা থানায় হামলার ঘটনায় মোট গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। ধৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ জমায়েত, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি, অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনে একাধিক গুরুতর মামলা রুজু করা হয়েছে । বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হয় । পাশাপাশি ফলতায় পুলিশি হেফাজত থেকে কুখ্যাত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনায় এবার বড় আইনি চাপে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি । জানা গিয়েছে, থানায় হামলা এবং জাহাঙ্গির খানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্রে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে । সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক আইন-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে ফলতা থানার পুলিশ । বর্তমানে তিনি পলাতক এবং তাঁর খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে । পুলিশের দাবি, এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত । সোমবার থেকেই জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী এলাকায় সমর্থক ও ঘনিষ্ঠদের একত্রিত করার কাজ শুরু করেন । মঙ্গলবার প্রথমে ফলতা এলাকায় পথ অবরোধ করা হয় । পরে জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে থেকে একটি বড় মিছিল ফলতা থানার উদ্দেশে রওনা দেয় । পুলিশের কাছে আগাম গোয়েন্দা তথ্য ছিল, এই জমায়েতের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাহাঙ্গির খানকে পুলিশি হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া এবং থানায় হামলা চালানো । পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আগেভাগেই ফলতা থানার সামনে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী । প্রশাসনের তরফে বিক্ষোভকারীদের বারবার সতর্ক করা হলেও অভিযোগ, একাংশ জোর করে থানার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে । শুরু হয় ধস্তাধস্তি । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে । তাতেই ভিড় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় । পালানোর পথ না পেয়ে বেশ কয়েকজন হামলাকারী পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে । ঘটনার পর থেকেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ । বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়ো এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয় । সেই সূত্র ধরেই বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও আটজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে ।

উল্লেখ্য, বুধবার ফলতায় একটি জনকল্যাণ শিবিরে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । সেখান থেকেই তিনি ফলতা থানায় হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন । মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যে কোনওভাবেই গুন্ডামি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বরদাস্ত করা হবে না । তিনি পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন, সিসিটিভি ফুটেজে যাঁদের দেখা গিয়েছে তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে । মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন । রাতভর অভিযান চালিয়ে একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় । তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে । তাই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাদের যোগাযোগ ও পরিকল্পনার যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে । ডায়মন্ড হারবার ক্রিমিনাল কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি গোলোনকুমার হালদার বলেন, “ফলতা থানার হামলার ঘটনায় বুধবার আটজনকে গ্রেফতার করেছে ফলতা থানার পুলিশ । এই ঘটনায় মোট 16 জন গ্রেফতার হয়েছে । অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট সরকারি কাজে বাধা এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে । মহামান্য বিচারপতির কাছে অভিযুক্তদের পুলিশের হেফাজতের অনুরোধ করেন ফলতা থানার পুলিশ ।”