রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন রেল স্টেশনে চলছে হকার উচ্ছেদ ও রেলের সম্পত্তি দখলমুক্ত করার অভিযান । সেই ধারাবাহিকতা বজায় রইল এবার দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার সন্তোষপুর রেল স্টেশনে ৷স্টেশন চত্বরে সোমবার রাতভর চলল বড়সড় হকার উচ্ছেদ অভিযান । জিআরপিকে সঙ্গে নিয়ে অস্থায়ী দোকানগুলোকে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হল । রেল প্রশাসনের দাবি, স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমি জবরদখল করে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক দোকান গড়ে উঠেছিল । সোমবার রাতে সেই সমস্ত বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে অভিযান চালায় রেল কর্তৃপক্ষ । রাত প্রায় ১০টা নাগাদ শুরু হওয়া এই অভিযান চলে গভীর রাত পর্যন্ত । অভিযানে উপস্থিত ছিল রেল পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী । কোনওরকম অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোটা স্টেশন চত্বরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় । প্রথমে দোকানগুলির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় । এরপর বুলডোজার ও অন্যান্য যন্ত্রের সাহায্যে একে একে ভেঙে ফেলা হয় জবরদখল করে গড়ে ওঠা দোকানগুলি । শুধু স্টেশন লাগোয়া এলাকাই নয়, প্ল্যাটফর্মের উপর থাকা বেআইনি কাঠামো ও দোকানও সরিয়ে দেন রেল কর্মীরা । রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্টেশন এলাকাকে দখলমুক্ত ও যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে । সন্তোষপুর স্টেশনের এই উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে । রেল সূত্রে খবর, আগামিদিনেও রাজ্যের আরও বিভিন্ন স্টেশনে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে । উল্লেখ্য, শিয়ালদা, দমদম, বেলঘড়িয়া, যাদবপুর-সহ বিভিন্ন রেল স্টেশনে এই হকার উচ্ছেদ অভিযান চলেছে ৷ রবিবার মাঝরাতে যাদবপুরে হকার উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় । উচ্ছেদে বাধা দিলে রেল পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ । যাদবপুর স্টেশন সহ-সংলগ্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে সিপিএম ৷ কলকাতা পুলিশ, রেল পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠির আঘাতে বেশ কয়েকজন সিপিএম নেতা জখম হন । গ্রেফতার করা হয় এসএফআই কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ 15 জনকে । এমনকি যাদবপুরে হকার উচ্ছেদের জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত ৷

