banganews.net

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহির দাবিতে সংসদের দুই কক্ষই উত্তাল হয়ে উঠল ৷ বৃহস্পতিবারও বিরোধীদের তুমুল হইহট্টগোলে বারবার মুলতুবি ঘোষণা করতে হল লোকসভা ও রাজ্যসভা ৷ পরিস্থিতি এমনই যে স্বয়ং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে রাজ্যসভায় আনতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছে দরবার করলেন ৷ বৃহস্পতিবারও সংসদের বাইরে বৃষ্টি মাথায় আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর পুলিশি অত্যাচারের জবাবদিহি, রামমন্দির অনুদান দুর্নীতিতে ব্যানার হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিরোধী সাংসদরা ৷ এদিকে যাঁর উপস্থিতি ও জবাবদিহি চেয়ে সংসদের দুই কক্ষ উত্তাল, সেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে এলেও কোনও কক্ষের অধিবেশনে উপস্থিত হননি ৷ এই আবহে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণান সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে জানান, বিরোধীদের আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিন ৷ দুপুর 12টায় প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজ্যসভার অধিবেশন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের সাংসদরা অমিত শাহের হাজিরার দাবিতে হইচই শুরু করে দেন ৷

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি বিক্ষোভকারী সাংসদদের বারবার শান্ত হওয়ার অনুরোধ করতে থাকেন ৷ তখন তিনি উচ্চকক্ষের বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে তাঁর বক্তব্য পেশ করার জন্য বলেন ৷ ঠিক সেই সময় ট্রেজারি বেঞ্চ তাতে বাধা দেয় এবং শাসক-বিরোধী পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কক্ষ ৷ অশীতিপর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে রিজিজুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি রুল পড়ে শোনাব না, আমার বিষয় বলব না তো কি আপনি যা দেবেন (কিরেন রিজিজু) তাই বলব ? এটা আমার অধিকার- কী বলব, কখন বলব এবং কীভাবে বলব ৷” বিরোধীরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের হাজিরার দাবি নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন ৷ খাড়গে এই দাবির সমর্থনে জানান, এটা দেশের এবং 140 কোটি মানুষের সঙ্গে জড়িত ৷ তিনি বলেন, “আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকে হাউজে আসতে বলছি ৷ আর বিবৃতি দিতে বলছি ৷ আমরা আলোচনা করতে রাজি ৷” তিনি মনে করিয়ে দেন, ইউপিএ আমলে প্রয়াত বিজেপি সাংসদ অরুণ জেটলিই একবার বলেছিলেন, “সংসদের কাজকর্মে বারবার বিঘ্ন ঘটনাোটা সংসদীয় গণতন্ত্রের অংশ ৷” খাড়গে বলেন, “কিন্তু এখানে আমরা কিছু যথাযথ প্রশ্ন তুলেছি, আর তাঁরা পালিয়ে যাচ্ছেন ৷” বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের এই বক্তব্যের পর রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে বিরোধীদের ‘আবেগের প্রতিধ্বনি’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বলেন ৷ চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণান বলেন, “এবার আমি আপনাকে তাঁর (মল্লিকার্জুন খাড়গের) অনুরোধ বিবেচনা করার জন্য বলব ৷ তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে হাউজে আসতে অনুরোধ জানিয়েছেন ৷ একজন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে আপনি বিরোধীদের এই আবেগের প্রতিধ্বনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছে দিন ৷”

এরপর সংসদ চত্বরে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের বলেন, “আমি রাহুল গান্ধির সঙ্গে কথা বলেছি এবং তা ফলপ্রসূ হয়েছে ৷ আমরা কয়েকটি বিশেষ বিষয় নিয়ে তাঁকে অনুরোধ করেছি ৷ আরও কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছি ৷ কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ এবং সহযোগিতা রেখে চলতে চাই ৷ আমরা রাজনৈতিক বিরোধী হলেও শত্রু নয় ৷ তাই দেশের স্বার্থে সবার একসঙ্গে কাজ করা উচিত ৷ কিন্তু সংসদের বাইরে বিরোধীরা এমন একটা ভাবমূর্তি তৈরি করেছে, তারা সংসদে কাজই করতে দিচ্ছে না ৷ কিন্তু এতে শেষ পর্যন্ত কাকে ভুগতে হবে ?” তাঁর সংযোজন, “প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তো সংসদেই আছেন ৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে চলেছেন ৷ স্বাভাবিকভাবে, যাঁর বিল নিয়ে আলোচনা হয়, তিনিই হাউজে হাজির থাকেন ৷”