ফের একবার রেপো রেট অপরিবর্তিতই রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ এই নিয়ে পর পর চার বার রেপো রেটে কোনও বদল আনল না আরবিআই৷ ফলে ৫.২৫ শতাংশের নীচে নামল না রেপো রেট৷ এই সিদ্ধান্তের ফলে ঋণদানকারী ব্যাঙ্ক এবং গ্রহীতাদের মধ্যে স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে৷ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ধাপে ধাপে রেপো রেট ১২৫ পয়েন্ট কমিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি পার্সোনাল, হোম বা কার লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার অপরিবর্তিতই রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ তবে ব্যাঙ্কগুলি নিজেদের মতো করে সুদের হার সামান্য এদিক ওদিক করতেই পারে৷ রেপো রেটে কোনও বদল না হওয়ায় বা রেপো রেট না কমার ফলে ব্যাঙ্ক ঋণের ইএমআই কমারও কোনও সম্ভাবনা থাকল না৷ নতুন যাঁরা হোম লোন নিতে চান, তাঁদেরও স্থিতিশীল সুদের হারেই ইএমআই দিতে হবে৷ একনজরে দেখে নেওয়া যাক ৩০ বছরের জন্য ৮.২০ শতাংশ হারে নেওয়া ৫০ লক্ষ টাকার গৃহ ঋণের ক্ষেত্রে কী পরিস্থিতি দাঁড়াতে পারে? সেক্ষেত্রে এতদিন ঋণগ্রহীতাকে এই হিসেবে ৩৭ হাজার ৩৪৬ টাকা ইএমআই দিতে হত৷ কিন্তু রেপো রেটে কোনও বদল না হওয়ায় ইএমআই-এর পরিমাণেও কোনও বদল হবে না৷২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ধাপে ধাপে রেপো রেট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট কমায় তার সুফল পেয়েছিলেন রেপো রেটের সঙ্গে সংযুক্ত হোম লোনের গ্রহীতারা৷ ২০ বছরের জন্য নেওয়া ৫০ লক্ষ টাকার গৃহ ঋণের ইএমআই-এর ক্ষেত্রে মাসে প্রায় ৩০৫০ টাকা সাশ্রয় হয়েছিল ঋণগ্রহীতাদের৷ গোটা ঋণের মেয়াদ ধরলে সেক্ষেত্রে ৭ লক্ষ টাকার বেশি সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছিল৷ ৭৫ লক্ষ টাকা ঋণের ক্ষেত্রে মাসে ৫৮০০ টাকা এবং ঋণের ২০ বছরের সময়কালে ১৩ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব৷রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় একদিকে যেমন ইএমআই আর সস্তা হল না, আবার এটাও ঠিক গ্রাহকরা যে সাশ্রয় করেছিলেন সেটাও বজায় থাকবে৷ কারণ রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় ইএমআই-এর পরিমাণও বাড়ছে না৷