ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলায় এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণে অভিযুক্ত ৩২ বছর এক যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যু। পুলিশের দাবি, ওই যুবক আগেও একটি অন্য ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। ওই মামলায় তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন। এ বার ১৩ বছর বয়সি এক নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পরেই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাঁকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে লাঠি ও পাথর দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, ঘটনা ঘটে সোমবার রাতে। অভিযোগ, নাবালিকা বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিল। সেই সময় ওই যুবক তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। নাবালিকার পরিবারের লোকজন সারারাত খোঁজাখুঁজির পরেও তার খোঁজ পায়নি। মঙ্গলবার সকালে মেয়েটি বাড়ি ফিরে এসে ঘটনার কথা জানায়। এর পরেই উত্তেজিত আত্মীয়-পরিজন ও গ্রামবাসীরা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে টেনে বের করে মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলাও দায়ের করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃত যুবক ২০২৩ সালে এক ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি জামিনে ছাড়া গ্রামে ফিরেছিলেন। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে ফের একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। তবে নতুন অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই আট ব্যক্তিকে আটক করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িয়ে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টনার পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে। ঝাড়খণ্ডের সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান হেদায়তুল্লাহ খান ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কোনও পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না।’ তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে চাতরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন। কমিশনের একটি দলও শীঘ্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
জামিনে মুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ, গণপিটুনি জনতার
Byবঙ্গনিউজ
Aug 5, 2026
