ফের একবার প্রশ্নের মুখে খোদ প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে নিরাপত্তা! সামান্য মোটরসাইকেল ওভারটেক করা নিয়ে দুই যুবকের মধ্যে বচসা যে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে সেটা ছিল কল্পনাতীত। আমেদাবাদের ধানধুকা এলাকাতে মোটরসাইকেল ওভারটেক করা নিয়ে তর্কবিতর্ক থেকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হল এক যুবককে। জানা গিয়েছে মৃতের নাম ধর্মেশ গামারা (৩০)। এদিনের এই ঘটনার পর রীতিমত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে একজনকে নৃশংসভাবে খুন করার প্রতিবাদে এলাকার একাধিক দোকানে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় সাধারণ মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং দমকল কর্মীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছুটা সময় লাগে দমকল কর্মীদের। আপাতত ওই এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে এবং যেকোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। আমেদাবাদ গ্রামীণ পুলিশ সুপার ওম প্রকাশ জাট এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, দুই যুবকের মধ্যে ঝগড়ার সময়ে ধর্মেশের পায়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন অভিযুক্ত। দ্রুত ধর্মেশকে স্থানীয় হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। ধর্মেশের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সাধারণ মানুষ রাস্তার ধারের একাধিক দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ঘটনার কিছু ভিডিয়ো। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিস্তীর্ণ এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। এদিকে ধর্মেশকে খুনের অভিযোগে সমীর ও রিজওয়ান নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দোকানে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে কমপক্ষে ২০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকিদের তল্লাশি চলছে। কিন্তু এদিনের ঘটনায় আরও একবার প্রশ্নের মুখে মোদির প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সামাজিক নিয়ম শৃঙ্খলা। গোটা রাজ্যজুড়েই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে একেবারেই তলানিতে এই নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।