সব মামলায় জামিন পেয়ে জেল থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন। ১২ বছর ১১ মাস জেলবন্দি তিনি। বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন। ঘটনাচক্রে, আর কয়েক দিন বাদেই রাজ্যে ভোট। তার আগে সারদাকর্তার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। হাই কোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার রায় ঘোষণা করে সুদীপ্তকে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দু’টি মামলায় জামিন দিয়েছে। ফলে তাঁর জেল থেকে বেরোনোর কোনও আইনি বাধা রইল না। তবে জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে আদালত। সম্ভবত বৃহস্পতিবার জেল থেকে ছাড়া পাবেন রাজ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন। সারদাকর্তার জামিন প্রসঙ্গে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘কারও জামিন হওয়া বা না-হওয়া আইন-আদালতের বিষয়। জামিন পাওয়া আইনের মধ্যেই পড়ে। সুদীপ্ত সেন জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। সুতরাং এটা নিয়ে আপাতত আলাদা করে কোনও ব্যাখ্যা বা মন্তব্যের কিছু নেই।’’ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, মামলার বর্তমান অবস্থা দেখে আদালত মনে করছে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া উচিত। এত দিন বিচার ছাড়া জেলে রাখা অন্যায়। রাষ্ট্রের ভুলের জন্য কোনও আসামিকে শাস্তি দেওয়া যায় না। সুদীপ্তকে জামিনের একাধিক শর্তও দিয়েছে আদালত। হাই কোর্ট জানায়, মামলাকারীকে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যেতে হলে আদালতের অনুমতি লাগবে। বাড়ির ঠিকানা বদলালে তদন্তকারী অফিসারকে জানাতে হবে। কোনও আর্থিক কোম্পানির ব্যবসায় জড়িত থাকতে পারবেন না। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সাক্ষীদের প্রভাবিত করা যাবে না। এ ছাড়াও মোবাইল সব সময় ‘লাইভ লোকেশন’-সহ চালু রাখতে হবে। সুদীপ্তকে মাসে এক বার থানায় হাজিরাও দিতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়ায় সব রকম সহযোগিতাও করতে হবে সুদীপ্তকে। ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ড গ্রুপের কর্তা সুদীপ্তের বিরুদ্ধে বারাসত থানায় দু’টি মামলা দায়ের হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং বহু মানুষের আমানত আত্মসাৎ অভিযোগ ওঠে। সুদীপ্তের আইনজীবী সাবির আহমেদ এবং সুজয় সরকারের বক্তব্য, তাঁর মক্কেল গর প্রায় ১৩ বছর ধরে জেলে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে মোট ৩৮৯টি মামলা দায়ের হয়েছিল। তার মধ্যে ৩৮৭টিতে ইতিমধ্যে জামিন পেয়েছেন। এই দু’টি মামলাই শুধু জেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁদের যুক্তি, একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়ার পরেও ১০ বছর ধরে কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। আর অন্য মামলার মূল নথি হারিয়ে গিয়েছে। ফলে এই দুই মামলায় বিচার কার্যত বন্ধ। সারদা কর্তার আইনজীবীদের বক্তব্য, সুদীপ্তের বয়স ৬৪ বছর। তিনি গুরুতর অসুস্থ। এত দিন কাউকে জেলে রাখা সম্ভাব্য সাজার থেকেও বেশি শাস্তি দেওয়া। যা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করে।

