বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা ৷ সেই সব মামলার শুনানি করতে সম্মত হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ৷ আবেদনের শুনানি আগামী ১০ জুলাই ৷ চলতি বছরের শেষের দিকে বিধানসভা নির্বাচন হবে বিহারে। বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং অভিষেকমনু সিংভি এই আবেদনগুলি উল্লেখ করেন ৷ একই সঙ্গে আইনজীবীরা এই মামলার জরুরি শুনানির আবেদনও করেছেন। আইনজীবীদের যুক্তি, নির্দিষ্ট নথি-সহ ফর্ম জমা দিতে ব্যর্থ ভোটাররা গত ২০ বছর ধরে নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকলেও তাদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হতে পারে ৷ বেঞ্চে জানানো হয়েছে, আট কোটি ভোটার রয়েছে রাজ্যে ৷ সিব্বল এই বিষয়ে নোটিশ জারি করার জন্যও শীর্ষ আদালতকে অনুরোধ করেন। বক্তব্য শোনার পর, ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার আবেদনগুলির শুনানি করতে সম্মত হয়েছে ৷ বিহারে ভোটার তালিকায় সংশোধন করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এখনও পর্যন্ত চারটি মামলা দায়ের হয়েছে শীর্য আদালতে । অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং আরজেডি’র রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এই মামলাগুলি দায়ের করেছেন। আবেদনকারীদের যুক্তি, এই পদক্ষেপ সংবিধানের ১৪, ১৯, ২১, ৩২৫ এবং ৩২৬ ধারার পাশাপাশি 1950 সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান এবং ১৯৬০ সালের ভোটার রেজিস্ট্রেশন বিধির ২১ (এ) ধারা লঙ্ঘন করেছে। মনোজ ঝা আইনজীবী ফৌজিয়া শাকিলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, ২৪ জুনের নির্বাচন কমিশনের আদেশ ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ২১, ৩২৫ এবং ৩২৬ ধারা লঙ্ঘন করার কারণে বাতিল করা হোক। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা বলেন, “বিকল্পভাবে, নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে ফর্ম 6-এ বর্ণিত সমস্ত নথিপত্রকেই প্রামাণ্য নথি হিসাবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া উচিত ৷” অন্যদিকে মহুয়া মৈত্র তাঁর আবেদনে 24 জুনের আদেশটিও বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন ৷ যার অধীনে সংবিধানের বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশোধন পরিচালিত হচ্ছে। কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তির ফলে তিন কোটিরও বেশি ভোটার, বিশেষ করে প্রান্তিক সম্প্রদায়ের (যেমন SC, ST এবং অভিবাসী শ্রমিক) ভোটদান থেকে বাদ পড়তে পারেন। পাশাপাশি আবেদনে বলা হয়েছে, “বিহারের বর্তমান রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সংশোধনীর কাজ চলছে ৷ সেখানে দেখা যাচ্ছে, গ্রাম এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের কয়েক লক্ষ ভোটারের কাছে কমিশনের তরফে চাওয়া নথিপত্রই নেই ৷”

