ফের এনসিবি কর্তা সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক। এবার তাঁর অভিযোগ, প্রমোদতরীতে অভিযান চালিয়ে শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানকে গ্রেপ্তারির সময় এনসিবি আধিকারিকরা পরিচিত বা কাছের লোকেদের সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বিশেষত সমীর ওয়াংখেড়ে তাঁর বিশেষ পরিচিতদের এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে রেখেছেন। এই অভিযোগের স্বপক্ষে একাধিক ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন এনসিপি নেতা। টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। তাতে জনৈক ফ্লেচার প্যাটেলের ছবি রয়েছে। সঙ্গে এক মহিলাকে দেখা গিয়েছে। তিনি এনসিবি আধিকারিক সমীর ওয়াংখেড়ের বোন জ্যাসমিন। নবাবের অভিযোগ, ফ্লেচারকে সাক্ষী করেই প্রমোদতরীতে অভিযান চালিয়েছিল এনসিবি। চার্জশিটে সাক্ষ্য হিসেবে ফ্লেচারের নাম রয়েছে। যা দেখে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী প্রশ্ন, এনসিবি আধিকারিকরা কীভাবে তাঁদের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে মামলার সাক্ষী হিসেবে দেখাচ্ছেন? তিনি এনসিবির সঙ্গে বিজেপির যোগসাজশের অভিযোগ এনেছেন। নবাবের দাবি, মুম্বইয়ের প্রমোদ তরীর মাদক পার্টিতে হাজির ছিলেন এক বিজেপি নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও। এনসিবির হাতে ধরাও পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে তাঁকে ছেড়ে দেয় এনসিবি। এই ঘটনার ভিডিও পোস্টও করেছেন এনসিপির মুখপাত্র নবাব মালিক।  আরিয়ান খান ড্রাগ এপিসোডের প্রধান তদন্তকারীর বিরুদ্ধে একের পর এক টুইটে নবাব মালিক অভিযোগ করেন যে, ওয়াংখেড়ে তাঁর বন্ধুদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘পঞ্চ’ (সাক্ষী) হিসেবে ব্যবহার করেন। মালিক এ প্রসঙ্গে জনৈক ফ্লেচার প্যাটেলের উল্লেখ করেন। যিনি দৃশ্যত এনসিবি-র তিনটি মামলার সাক্ষী ছিলেন। এই ফ্লেচার প্যাটেল ও এনসিবি-র জোনাল ডাইরেক্টরের সঙ্গে যোগসূত্র প্রমাণ করার জন্য মহারাষ্ট্র বিধানসভার এই মন্ত্রী সমীর ওয়াংখেড়ের বোনের সঙ্গে ফ্লেচারের ইনস্টাগ্রাম ছবিও শেয়ার করেছেন। সমীর ওয়াংখেড়ের সঙ্গে ফ্লেচারের অন্য একটি ছবি দেখিয়ে নবাবের দাবি, সমীর ও ফ্লেচার একে অপরের পূর্ব পরিচিত আর সেই ফ্লেচারকেই মাদক মামলায় সাক্ষী করেছে এনসিবি। নবাব প্রশ্ন তুলেছেন, এনসিবি আধিকারিকরা কী ভাবে তাঁদের ঘনিষ্ঠ লোকজদের বিভিন্ন সময় মামলার সাক্ষী হিসেবে দেখাচ্ছেন? গত সপ্তাহেও এনসিপি নেতা নবাব মালিক কয়েকটি ভিডিয়ো দেখিয়ে অভিযোগ করেছিলেন, ২ অক্টোবর প্রমোদতরীতে মাদক মামলায় ধৃত তিন জনকে অভিযান শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এনসিবি-র সঙ্গে বিজেপি ঘনিষ্ঠতার দাবি তুলে নবাব অভিযোগ করেছিলেন, ‘অভিযান শেষে এনসিবি-র সমীর ওয়াংখেড়ে বলেছিলেন ৮ থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত বিষয় হল, সে দিন মোট ১১ জনকে আটক করা হয়। ঋষভ সচদেবা, প্রতীক গাবা ও আমির ফার্নিচারওয়ালা নামে তিন জনকে ওই দিন অভিযান শেষে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।’