ফ্রিজ হয়ে থাকা তৃণমূলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানিতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে ‘স্পেশাল অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আপাতত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনিই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করবেন। হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং প্রয়োজনীয় আইনি খরচ মেটানোর জন্য স্পেশাল অফিসারের মাধ্যমে টাকা তোলা যাবে। তবে কোনও বড় বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। বিচারপতি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশন দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কাউকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দিলে এই নির্দেশ পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে। গত ১৮ জুন বিধাননগর সাইবার থানায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিধায়ক অভিযোগ দায়ের করেন যে, কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার টাকা জমা পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিনটি অ্যাকাউন্টের ডেবিট (টাকা তোলা) ফ্রিজ করার নির্দেশ দেয়। পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। শুনানিতে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সওয়াল করেন, নির্বাচনের সময় অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করায় দলের দৈনন্দিন কাজ ও সমান সুযোগের নীতি ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলের প্রতিটি লেনদেন নির্বাচন কমিশন ও আয়কর দপ্তরের নজরদারিতে থাকে। অন্যদিকে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, অভিযোগপত্র দায়েরের আগেই বয়ান সংগ্রহের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে। বিচারপতি ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে প্রাসঙ্গিক তথ্যের অভাব রয়েছে কি না। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কমিশনের স্বীকৃতি ছাড়া দলের অধিকার নিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের দাবি এই পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নয়। আদালত জানায়, বর্তমানে পুলিশের পদক্ষেপের আইনি বৈধতা যাচাই করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

