মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ ও নারীদের কাছে ‘ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে এবার একযোগে সুর চড়াল বিরোধীরা। তৃণমূল, কংগ্রেস এবং সিপিএম—তিন দলেরই স্পষ্ট অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণের নামে আসলে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর গভীর চক্রান্ত করেছে কেন্দ্র। সেই ‘ডিলিমিটেশন’ বা সীমানা পুনর্নির্ধারণের নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক অভিসন্ধি আড়াল করতে মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে মোদি সরকার। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘ক্ষমা প্রার্থনা’কে ভান’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো একটি ষড়যন্ত্রকে ঢাকতে মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আদৌ কোনও অনুশোচনা নেই। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রীকে কড়া আক্রমণ করে লেখা হয়েছে, “তিনি দেশের মহিলাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার আরও একটি সুযোগ হারালেন।” তৃণমূলের মতে, মণিপুরে মহিলাদের রাস্তায় নগ্ন করে ঘোরানো, বিহারে ক্যামেরার সামনে শ্লীলতাহানি, বিজেপি শাসিত রাজ্যে দলিত ও আদিবাসী মহিলাদের উপর পৈশাচিক অত্যাচার এবং বিজেপি নেতাদের নারীবিদ্বেষী জঘন্য মন্তব্যের জন্য দেশের কাছে মাথা নত করে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর । সবশেষে মোদিকে সরাসরি বিঁধে তৃণমূলের কড়া বার্তা, “মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে কোনও পয়সা লাগে না মোদিজি, কখনও অন্তত সেটা করার চেষ্টা করুন।” বামেদের নিশানায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ‘বিভাজনের রাজনীতি’। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “মোদি আসলে হলেন ‘ডিভাইডার নম্বর ওয়ান’। তিনি শুধু দেশ ভাগ করতে চাইছেন।” সেলিমের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার মহিলা বিলের চেয়ে ডিলিমিটেশনের উপরেই বেশি জোর দিচ্ছে। বাম আমলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “আমরা পঞ্চায়েত ও পুরসভায় মহিলা সংরক্ষণ করেছি । সেই উদাহরণ রয়েছে। সংসদে এ সংক্রান্ত একটি বিল আগে থেকেই পেশ করা আছে । তার পিছনে গীতা মুখোপাধ্যায় কমিটির রিপোর্টও ছিল। সেই বিল পাশ করালেই তো ঝামেলা মিটে যেত। সব দলই তাকে সমর্থন করেছিল।” বামনেতার দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে নারী সংরক্ষণের বিষয়টি পিছিয়ে দেওয়ার জন্যই মহিলা বিলকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছেন মোদি।সেলিমের আরও অভিযোগ, সংসদে কোনও সুষ্ঠু আলোচনাই হয় না। পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলি সুষ্ঠুভাবে পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে জাতীয় প্রকল্প রূপায়িত করেছে । তাদেরই বঞ্চিত করার ছক কষা হচ্ছে। উল্টে, উত্তর ভারতের যে রাজ্যগুলি জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছে ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আসন বাড়িয়ে তাদের পুরস্কৃত করার চেষ্টা চলছে। সংবাদমাধ্যমের একাংশ বিষয়টিকে ‘মহিলা বিল’ বলে প্রচার করলেও, সেলিমের মতে এটি পুরোদস্তুর একটি ডিলিমিটেশন বিল। একই সুরে সুর মিলিয়েছে কংগ্রেসও। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগেই হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু কলকাতার বিধান ভবনে এক সাংবাদিক বৈঠকে এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “সংসদে ডিলিমিটেশন ইস্যুকে 2023 সালের মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে যুক্ত করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। 16 এপ্রিল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশ করা গেজেট নোটিফিকেশনের উদ্দেশ্য অসৎ ।” কংগ্রেস নেতার দাবি, মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের আসল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধি। তাঁর আমলে 73তম ও 74তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পঞ্চায়েত ও স্বায়ত্তশাসিত স্থানীয় প্রশাসনে মহিলাদের জন্য 33 শতাংশ সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করা হয়েছিল।

