আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে এক অত্যন্ত অভাবনীয় এবং আকস্মিক সিদ্ধান্ত আইপ্যাকের (I-PAC) ৷ পশ্চিমবঙ্গে তাদের সমস্ত কাজকর্ম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা । এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাটি তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে । সোশাল মিডিয়ায় এই নিয়ে ইতিমধ্য়েই জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে । সংস্থার অভ্যন্তরীণ ইমেলের মাধ্যমে কর্মীদের কাছে এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যেখানে মূলত কিছু নির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই এই সাময়িক বিরতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে । তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার, রূপরেখা নির্ধারণ ও ভোট কৌশলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত এই সংস্থার এমন আকস্মিক প্রস্থান, নির্বাচনের ঠিক মুখে রাজ্যের শাসক শিবিরকে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ফেলে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ৷ আইপ্যাক কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত সংস্থার সমস্ত কর্মীকে অবিলম্বে কাজ বন্ধ করে আগামী 20 দিনের জন্য সাময়িক ছুটিতে যেতে বলা হচ্ছে । আগামী 11 মে-র পর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কর্মীদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা হবে এবং পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতের রূপরেখা বা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে । কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো ওই ইমেলে আইপ্যাক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, “আইনকে আমরা সর্বদা শ্রদ্ধা করি এবং গোটা আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছি । নির্দিষ্ট সময়ে আমরা সুবিচার পাব বলে নিশ্চিত ।” এই ডামাডোলের পরিস্থিতিতে কর্মীদের শান্ত ও ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং যে কোনও প্রয়োজনে তাঁরা যাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে । ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আইপ্যাকের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার লাগাতার চাপ । উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আইপ্যাকের কলকাতার কার্যালয় এবং সংস্থার অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনে আচমকা তল্লাশি অভিযান চালায় । এই তল্লাশি অভিযান চলাকালীন এক বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকে রাজ্য রাজনীতি । রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং তল্লাশিস্থলে উপস্থিত হন । অভিযোগ ওঠে যে, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সেখান থেকে তুলে নিয়ে বেরিয়ে যান ।

