বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh Storm)। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল ধূলিঝড়, বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন (Casualties) অন্তত ১১১ জন। আহতের সংখ্যা ৭২ ছাড়িয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে জেলায় জেলায় মন্ত্রীদের দ্রুত পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ত্রাণ বিলিতে বিন্দুমাত্র অবহেলা করা হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৃত্যুর খবর এলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা সবথেকে বেশি প্রয়াগরাজে। সেখানে ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ভাদোহিতে ১৮ জন এবং মির্জাপুরে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ফতেহপুরে দেয়াল চাপা পড়ে এবং বজ্রাঘাতে ১০ জন মারা গেছেন। উন্নাও, বদায়ুন, প্রতাপগড় এবং বেরিলির মতো জেলাগুলো থেকেও একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মানুষ পর্যন্ত হাওয়ায় উড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেরিলির বামিয়ানা গ্রামে এক ব্যক্তি টিনের চাল সহ ৫০ ফুট দূরে গিয়ে আছড়ে পড়েন। নানহে মিয়াঁ নামে ওই ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া হাওয়ায় উপড়ে পড়েছে গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি। বহু যানবাহন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় উদ্ধারকার্য এবং ত্রাণ বণ্টন শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের নিশ্চিত করতে হবে যে আর্থিক সাহায্য এবং ত্রাণ যেন কোনো দেরি ছাড়াই পৌঁছায়। এছাড়াও মন্ত্রীদের ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে হবে। বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারি স্তরে কোনো খামতি রাখা চলবে না।

