একদফায় ভোট তামিলনাড়ু-অসম-কেরল-পুদুচেরিতে, বাংলায় দুই

পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত রাজ্যের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন ৷ দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবির সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীকে নিয়ে এদিন বিজ্ঞানভবনে নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ৷ সেখানেই কমিশন জানিয়ে দিল কেরল, তামিলনাড়ু, অসম ও পুদুচেরিতে একদফায় হবে ভোট ৷ ২ দফায় ভোট হবে বঙ্গে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল (১৫২ আসন)। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল (১৪২ আসন)। ভোটের ফল ঘোষণা হবে ৪ মে গণনা। রবিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে ভোট ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই ঘোষণার সঙ্গেই জারি হয়েছে, মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট। যা জারি হওয়ায় সরকারও কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারবে না। ভোট ঘোষণার মুহূর্ত থেকে প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে গেল। সপ্তদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা শেষ হবে ৭ মে, ২০২৬। সে কারণে ৭ মে-র আগে সরকার গঠন করে ফেলতে হবে। ২০২১ সালে ভোট হয়েছিল ৮ দফায়। ২ মার্চ ভোট ঘোষণা হয়। ২৭ মার্চ ছিল প্রথম দফার ভোট। শেষ দফা হয় ২৯ এপ্রিল। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটও হয়েছিল ৭ দফায়। গোটা দেশের সঙ্গে বাংলাতেও সাত দফাই হয় ভোট। SIR-এর কারণে এমনিতেই অনেকটা পিছিয়ে ভোট ঘোষণা এ বার। এ বার ভোটের দফাতেও কাটছাঁট। যদিও বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম প্রথম থেকেই এক কিংবা দু’দফায় ভোটের দাবি তুলে এসেছে। তৃণমূল অবশ্য দফা নিয়ে কিছুই বলেনি, বার বারই দাবি করেছে – একজন যোগ্য ভোটারের নামও যেন বাদ না যায়। ২০১১ সালে বাংলায় ৩৪ বছরের বামদুর্গ ভেঙে পড়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে তৃণমূল। ২০১৬ ও ২০২১ সালেও বিধানসভা নির্বাচনেও বিপুল জয় পেয়েছে তারা। ২০২১ সালে একদিকে কোভিড, অন্যদিকে দলের একের পরে এক নেতা-নেত্রীর বিজেপি শিবিরে যোগদান, অনেকেই মনে করেছিল খেলা ঘুরে যেতে পারে। কিন্তু সে বারও ২১৩টি আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। ৭৭টিতে জেতে বিজেপি। এ বার বিজেপিও জয় নিয়ে বেশ আশাবাদী। শনিবার, ১৪ মার্চ, কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাকে ‘বিকশিত বাংলা’ করার ডাক দেন তিনি। বাংলায় পরিবর্তনের সরকার গড়ার ডাক দিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে এ বার বহু বছর পরে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা বলেছে কংগ্রেস। সিপিএম অবশ্য কোন কৌশলে ভোট লড়বে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ISF-এর সঙ্গে জোট হবে? অন্য কোনও দলের সঙ্গে মোর্চা-মঞ্চ গড়বে? নাকি শেষবেলায় চমকে দেওয়ার মতো কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে বসবে? উত্তর দেবে সময়।
এসআইআরের পর রাজ্যে এখনও বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা কমবেশি ৬৩ লক্ষ। তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেই রবিবার বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এই ভোটারদের কী হবে? তাঁরা কি আদৌ ভোট দিতে পারবেন? নাকি গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব থেকে দূরেই থাকতে হবে? রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে সেই বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তবে সবটা খুলে বললেন না। মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের কথায়, ”সংবিধান মেনে এসআইআর হয়েছে। অবৈধ ভোটাররা যাতে বাদ পড়েন এবং বৈধ ভোটারদের নাম ওঠে, সেই লক্ষে এসআইআর করা হচ্ছে। বিচারাধীন থাকা যোগ্য ভোটারদের নাম উঠবে ভোটার তালিকায়। তার জন্য অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ যাবে।” তবে কবে এসব নিষ্পত্তির পর অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, তা স্পষ্ট করেননি জ্ঞানেশ কুমার।
নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরেই রাজ্যজুড়ে জারি হয়ে গিয়েছে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (MCC)। তবে এই দুই দফার ভোটে শেষ কবে মনোনয়ন (Nominations) জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা?
প্রথম দফায় মনোনয়ন জমা দেওয়া ও প্রত্যাহারের শেষ দিন কবে?
প্রথম দফা: ৩০ মার্চ ভোটের জন্য বিজ্ঞপ্তি
প্রথম দফা: মনোনয়নের শেষ দিন ৬ এপ্রিল
প্রথম দফা: মনোনয়নের স্ক্রুটিনির শেষ দিন ৭ এপ্রিল
প্রথম দফা: মনোনয়নের প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল
দ্বিতীয় দফায় মনোনয়ন জমা ও প্রত্যাহারের শেষ দিন কবে?
দ্বিতীয় দফা: ২ এপ্রিল ভোটের জন্য বিজ্ঞপ্তি
দ্বিতীয় দফা: মনোনয়নের শেষ দিন ৯ এপ্রিল
দ্বিতীয় দফা: মনোনয়নের স্ক্রুটিনির শেষ দিন ১০ এপ্রিল
দ্বিতীয় দফা: মনোনয়নের প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ এপ্রিল
৬ মে-র মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রক্রিয়া শেষ

দেখে নিন কবে কোথায় ভোট –
প্রথম দফায় ভোট কোন কোন জেলায় (২৩ এপ্রিল)
কোচবিহার (৯টি আসন)
মেখলিগঞ্জ, মাথাভাঙা, কোচবিহার উত্তর, কোচবিহার দক্ষিণ, শীতলকুচি, সিতাই, দিনহাটা, নাটাবাড়ি, তুফানগঞ্জ।
আলিপুরদুয়ার (৫টি আসন)
কুমারগ্রাম, কালচিনি, আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা, মাদারিহাট।
জলপাইগুড়ি (৭টি আসন)
ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, মাল, নাগরাকাটা।
দার্জিলিং ও কালিম্পং (৬টি আসন)
কালিম্পং, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া।
উত্তর দিনাজপুর (৯টি আসন)
চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, করণদিঘি, হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ, ইটাহার।
দক্ষিণ দিনাজপুর (৬টি আসন)
কুশমন্ডি, কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট, তপন, গঙ্গারামপুর, হরিরামপুর।
মালদহ (১২টি আসন)
হবিবপুর, গাজোল, চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর, রতুয়া, মানিকচক, মালদহ, ইংরেজবাজার, মোথাবাড়ি, সুজাপুর, বৈষ্ণবনগর।
মুর্শিদাবাদ (২২টি আসন)
ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, সুতি, জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘি, লালগোলা, ভগবানগোলা, রানিনগর, মুর্শিদাবাদ, নবগ্রাম, খড়গ্রাম, বড়ঞা, কান্দি, ভরতপুর, রেজিনগর, বেলডাঙা, বহরমপুর, হরিহরপাড়া, নওদা, ডোমকল, জলঙ্গি।
পূর্ব মেদিনীপুর (১৬টি আসন)
তমলুক, পাঁশকুড়া পূর্ব, পাঁশকুড়া পশ্চিম, ময়না, নন্দকুমার, মহিষাদল, হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, পটাশপুর, কাঁথি উত্তর, ভগবানপুর, খেজুরি, কাঁথি দক্ষিণ, রামনগর, এগরা।
পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম (১৯টি আসন)
দাঁতন, নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম, কেশিয়ারি, খড়গপুর সদর, খড়গপুর, নারায়ণগড়, সবং, পিংলা, ডেবরা, দাসপুর, ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, গড়বেতা, শালবনি, কেশপুর, মেদিনীপুর, বিনপুর।
পুরুলিয়া (৯টি আসন)
বান্দোয়ান, বলরামপুর, বাঘমুন্ডি, জয়পুর, পুরুলিয়া, মানবাজার, কাশীপুর, পাড়া, রঘুনাথপুর।
বাঁকুড়া (১২টি আসন)
শালতোড়া, ছাতনা, রানিবাঁধ, রাইপুর, তালড্যাংরা, বাঁকুড়া, বড়জোড়া, ওন্দা, বিষ্ণুপুর, কোতুলপুর, ইন্দাস, সোনামুখী।
পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম (২০টি আসন)
পাণ্ডবেশ্বর, দুর্গাপুর পূর্ব, দুর্গাপুর পশ্চিম, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, আসানসোল উত্তর, আসানসোল দক্ষিণ, কুলটি, বারাবনি।
দুবরাজপুর, সিউড়ি, বোলপুর, নানুর, লাভপুর, সাঁইথিয়া, ময়ূরেশ্বর, রামপুরহাট, হাঁসন, নলহাটি, মুরারই।
দ্বিতীয় দফায় ভোট (২৯ এপ্রিল)
নদিয়া (১৭টি আসন)
করিমপুর, তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, কৃষ্ণনগর উত্তর, নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, চাকদহ, কল্যাণী, হরিণঘাটা।
উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩টি আসন)
বাগদা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা, স্বরূপনগর, বাদুড়িয়া, হাবড়া, অশোকনগর, আমডাঙা, বীজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, বারাকপুর, খড়দহ, দমদম উত্তর, পানিহাটি, কামারহাটি, বরানগর, দমদম, রাজারহাট-নিউটাউন, বিধাননগর, রাজারহাট গোপালপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসত, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, বসিরহাট দক্ষিণ, বসিরহাট উত্তর, হিঙ্গলগঞ্জ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১টি আসন)
গোসাবা, বাসন্তী, কুলতলি, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, সাগর, কুলপি, রায়দিঘি, মন্দিরবাজার, জয়নগর, বারুইপুর পূর্ব, ক্যানিং পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর, সোনারপুর দক্ষিণ, ভাঙড়, কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, টালিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, মহেশতলা, বজবজ, মেটিয়াবুরুজ।
কলকাতা (১১টি আসন)
কলকাতা বন্দর, ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ, চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া।
হাওড়া (১৬টি আসন)
বালি, হাওড়া উত্তর, হাওড়া মধ্য, শিবপুর, হাওড়া দক্ষিণ, সাঁকরাইল, পাঁচলা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া উত্তর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, বাগনান, আমতা, উদয়নারায়ণপুর, জগৎবল্লভপুর, ডোমজুড়।
হুগলি (১৮টি আসন)
উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, চাঁপদানি, সিঙ্গুর, চন্দননগর, চুঁচুড়া, বলাগড়, পাণ্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, চণ্ডীতলা, জাঙ্গিপাড়া, হরিপাল, ধনেখালি, তারকেশ্বর, পুরশুড়া, আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল।
পূর্ব বর্ধমান (১৬টি আসন)
খণ্ডঘোষ, বর্ধমান দক্ষিণ, রায়না, জামালপুর, মন্তেশ্বর, কালনা, মেমারি, বর্ধমান উত্তর, ভাতার, পূর্বস্থলী দক্ষিণ, পূর্বস্থলী উত্তর, কাটোয়া, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম, গলসি।

