ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে পুরনো বিবাদের জেরে 17 বছরের কিশোরকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ তিন যুবকের বিরুদ্ধে। সোমবারের এই ঘটনার জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বারুইপুরের পালপাড়া।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল ও বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা হাসপাতালের সামনে কুলপি রোড অবরোধ করায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচলও ব্যাহত হয়। ঘটনায় তিন অভিযুক্তকেই আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বারুইপুর পুলিশ জেলার এসডিপিও অভিষেক রঞ্জন ৷

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। বারুইপুরের ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা ৷ স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের দাবি, দিন কয়েক আগে ফুলতলার একটি মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রসেনজিৎ ও তার বন্ধুদের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন যুবকের বচসা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই বিবাদের জেরেই পরিকল্পনা করে প্রতিশোধ নেওয়ার ছক কষে অভিযুক্তরা।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এদিন ওই তিন যুবক প্রসেনজিৎ এবং তার এক বন্ধুকে পালপাড়া এলাকায় ডেকে পাঠায়। সেখানে পৌঁছনোর পর দু’পক্ষের মধ্যে ফের বচসা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কথাকাটাকাটির মাঝেই অভিযুক্তরা আচমকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রসেনজিৎ ও তার বন্ধুর উপর হামলা চালায়। প্রসেনজিতের বুকে আঘাত লাগে। তাকে বাঁচাতে গেলে তার বন্ধুকেও মারধর করা হয় ৷ তার আঘাতও যথেষ্ট গুরুতর।

রক্তাক্ত অবস্থায় প্রসেনজিৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে অভিযুক্তরাই তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় । সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রসেনজিৎকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত বন্ধুর চিকিৎসা চলছে।

কিশোরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমান পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার বাসিন্দারা। অভিযুক্তরা হাসপাতালে থাকা পুলিশ কিয়স্কে আশ্রয় নিলে ক্ষুব্ধ জনতা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করে। অভিযুক্তদের তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অভিযুক্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।

এসডিপিও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।” এমনিতেই নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও গণপিটুনির ঘটনা ঘিরে শিরোনামে বারুইপুর ৷ এবার সেখানেই কিশোরকে খুনের অভিযোগ ৷