লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে চারদিনে মুম্বইয়ে প্রাণ গেল ১৩ জনের ৷ এর মধ্যে রবিবার রাতে একটি তিনতলা বাড়ি ভেঙে 6 জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজনের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে ৷ প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ববিবার রাতে শহরের মানখুর্দ এলাকায় এই বাড়িটি ভেঙে পড়ে ৷ তাতে হাতহতের খবর পাওয়া যায় ৷ তার আগে দুপুরের দিকে মুম্বইয়ের নবপদা এলাকায় একটি দোকানের উপর গাছ ভেঙে পড়ায় প্রাণ হারান এক বৃদ্ধ ৷ মানে শুধু রবিবারই প্রাণ গিয়েছে সাতজনের ৷ এর আগেও কয়েকটি মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে ৷ সবমিলিয়ে চার দিনে প্রাণ গেল ১৩ জনের ৷ প্রবল বৃষ্টির জেরে বাণিজ্য নগরির সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত স্কুলে ছুটি দেওয়া হয়েছে ৷ বন্ধ রাখা হয়েছে মুম্বই ও পুণের ট্রেন চলাচল ৷ গত বেশ কয়েকদিন ধরে মুম্বই থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্রের একাধিক প্রান্তে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে ৷ তার জেরে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত জনজীবন ৷ এর আগেও আলাদা আলাদা কয়েকটি ঘটনায় বেশ কয়েকজনের প্রাণ গিয়েছে ৷ তবে রবিবার রাতে একই বাড়িতে 6 জনের মৃত্যু প্রশাসনের কর্তাদের ভাবাচ্ছে ৷ মানখুর্দের বাড়ি থেকে উদ্ধার করার পর পাঁচজনকে বিএমসি পরিচালিত শতাব্দী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সেখানে চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন ৷ অন্যজনের প্রাণ যায় রাজৌরি হাসপাতালে ৷ জানা গিয়েছে, বাড়ি ভাঙার খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং দমকল-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থা একযোগে উদ্ধারের কাজ শুরু করে ৷ বেশ খানিকক্ষণের চেষ্টায় কয়েজনকে উদ্ধার করা গেলেও তার মধ্য়ে একজন ছাড়া আর কাউকে প্রাণে বাঁচানো যায়নি ৷ স্থানীয় বিজেপি কাউন্সিলর নবনাথ বান জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে তিনি জানতে পেরেছেন কয়েকজনের খোঁজ এখনও মিলছে না ৷ তাঁরা কোথায় আছেন তা জানার চেষ্টা হচ্ছে ৷ উদ্ধারের কাজ সম্পন্ন হলে মৃতের সংখ্য়া আরও বাড়ে কি না সেটাই এখন দেখার ৷ অন্যদিকে, রবিবার স্বাভাবিক থাকলেও সোমবার সকাল থেকে মুম্বই ও পুনের মধ্য়ে ট্রেন চালানো সম্ভব নয় বলে বুঝতে পারেন রেল কর্তারা ৷ মধ্যরেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক স্বপ্ননীল নিলা সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানান, ঘাট স্টেশনের কাছে ঠাকুরদি নামে একটি জায়গায় রেললাইনে ধস নামে ৷ এরপর যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মুম্বই-পুনে ট্রেন চলাচল আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে ৷ শুরু হয়েছে ধস মেরামতির কাজ ৷নিলা বলেন, “লোনাভালা ও দক্ষিণ পূর্ব ঘাট স্টেশনর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে ৷ তার জেরে আপ লাইনে ধস নামে ৷ ” লাগাতার বৃষ্টির ফলে সিএসএমটি-পুনে ইন্দ্রায়ণী এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ডেকান এক্সপ্রেস, ডেকান কুইন, প্রগতি এক্সপ্রেস এবং ধুলে এক্সপ্রেসের মত বেশকিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আরও কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথ বদল করতে হয়েছে ৷ যাত্রীদের সাহায্য করতে প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে হেল্পলাইন চালু করেছে মধ্যরেল ৷ সিএসএমটি স্টেশনের হেল্পলাইনের নম্বর-022-22694040, থানের নম্বর 9321336747, লোনাভালার নম্বর 8356854238 এবং দাদরের নম্বর 9136452387 ৷