বিষমদের জেরে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে ৷ মহারাষ্ট্রের পুনে, হাড়াপসার, দাপোদি-ফুগেওয়াড়িতে এলাকায় ইতিমধ্যেই ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও অনেকে ৷ মর্মান্তিক এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে ৷ ঘটনার তদন্তে নেমে বিষমদ বিক্রির অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষমদের কারণে অনেকেই গুরুতর অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । ঘটনার তদন্তে নেমে যোগেশ ওয়াংখেড়ে-সহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, বেআইনি মদ বিক্রির বিরাট নেটওয়ার্ক রয়েছে এই যোগেশের ৷ অভিযোগ, এই ব্যক্তিই এলাকায় বিষমদ সরবরাহ করেছিল। এর আগে রাজ্য আবগারি দফতরও তাকে হেফাজতে নিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওয়াংখেড়ে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এবং পুনে এলাকায় তাঁরা ওই মদ সরবরাহ করেছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে ৷ যোগেশ ওয়াংখেড়ে নিজে থেকেই পুলিশের কাছে যায় ৷ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছেন। আহতদের সকলকে চিকিৎসা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি ৷ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ পুরো ঘটনা, আমরা খুঁজে বের করব। আবগারি বিভাগের অভিযান শুরু হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে ৷ খুব দ্রুত তাদেরও গ্রেফতার করা হবে ৷” পুলিশ সূত্রে খবর, যোগেশ ওয়াংখেড়ে ওই মদ তৈরি করেছিলেন। সেই মদ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। দাপোদী, ফুগেওয়াড়ি, ইডপসর এবং কালে পড়ল এলাকার কিছু লোক সেই মদ পান করেছিলেন বলে সন্দেহ। ওই সব এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একের পর এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ তড়িঘড়ি তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ তারপরই বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যা ৷ রাজ্য আবগারি দফতর এই মামলার মূল অভিযুক্ত যোগেশ ওয়াংখেড়েকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। যেহেতু এই ঘটনায় আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তাই তদন্তকারী সংস্থা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। বিষমদ খেয়ে মৃত্যুমিছিলের ঘটনায় এলাকাবাসীরা আতঙ্কে রয়েছেন ৷ তাঁরা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করছেন।