কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ! সুপ্রিম দরবারে কেন্দ্র। ১ অগাস্ট থেকে বাংলায় ১০০ দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্চ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল কেন্দ্র। চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত ৩ বছর ধরে বাংলায় বন্ধ রয়েছে ১০০ দিনের কাজ। এমনকি এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ আটকে রেখেছে কেন্দ্র সরকার। এদিকে এই অভিযোগে বারবার সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এহেন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কেন্দ্রের যুক্তি, বাংলায় ১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে ভুরিভুরি দুর্নীতি হয়েছে। যারা প্রকৃত পক্ষে কাজ করেছেন, তারাই প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত। অথচ যারা কাজ করেননি, তাদের অ্যাকাউন্টেই টাকা গিয়েছে। এই কারণেই ১০০ দিনের বরাদ্দ আটকে রেখেছে কেন্দ্র। এই নিয়ে চলতি বছর জুন মাসে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, ‘রাজ্য সরকারকে ১০০ দিনের কাজের দুর্নীতি রুখতে যে কোনও শর্ত দিতে পারবে কেন্দ্র। তবে  ১০০ দিনের কাজ পুনরায় শুরু করতে হবে। প্রকল্পটিকে বন্ধ করে রাখা যাবে না।’ অন্যদিকে, কেন্দ্রের এক পরিদর্শক দল বাংলায় ১০০ দিনের কাজ নিয়ে তদন্ত চালিয়েছিল ২০২৪ সালে। যেখানে তাদের তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে, অন্তত ৬১৩ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে। রাজ্য সরকার তার মধ্যে প্রায় ২১০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন। এরপর আদালতের নির্দেশে চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিনিধি ছাড়াও ক্যাগ ও অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের প্রতিনিধি রাখা হয়। ওই কমিটি ২০২৫ সালের এপ্রিলে রিপোর্ট জমা দিয়ে জানায়, চার জেলায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এই বিষয়ে এর আগেই পৃথকভাবে মামলা করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর দাবি, প্রকল্পের টাকার নয়-ছয় হয়েছে এবং সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। আবার খেতমজুর সংগঠনের অভিযোগ ছিল, ডিসেম্বর ২০২১ থেকে মজুরি বন্ধ। বকেয়া মজুরি অবিলম্বে মেটানো ও সুদ দেওয়ার দাবিও ওঠে। এখন দেখার হাইকোর্টের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখে কিনা। নাকি ফের আটকে যায় ১০০ দিনের কাজ।