প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি স্বরাজ পল ৷ পরিবার সূত্রে খবর,স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লন্ডনে ৯৪ বছর বয়সে এই অনাবসী ভারতীয় শিল্পপতির জীবনাবসান হয়েছে ৷ দিন কয়েক আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৷ সেখানেই তিনি প্রয়াত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে ৷ তাঁর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন অনেকে ৷ শোকবার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে ব্রিটিনের সংসদের উচ্চকক্ষে তাঁর সতীর্থ লর্ড ব়্যামি রেঞ্জারও ৷ এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “লর্ড স্বরাজ পলের প্রয়াত হওয়ার খবর পেয়ে আমি মর্মাহত ৷ ব্যবসা থেকে শুরু করে সমাজসেবা-সহ নানা ব্যাপারে তাঁর অবদান মনে রাখার মতো ৷ ভারতের সঙ্গে ছিল তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ৷ তাঁর সঙ্গে কাটানো সময় আমার স্মৃতিতে থেকে যাবে ৷” আদতে জলন্ধরের বাসিন্দা স্বরাজ ছয়ের দশকে ছোট মেয়ের ক্যানসরের চিকিৎসা করাতে লন্ডনে গিয়েছিলেন ৷ কিন্তু তাতেও কাজের কাজ হয়নি ৷ মাত্র চার বছর বয়সেই অম্বিকার মৃত্যু হয় ৷ এরপর সেখানেই থেকে যান ৷ পরে তৈরি করেন অম্বিকা পল ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থা ৷ শিশুদের চিকিৎসা-সহ নানা ব্যাপারে সাহায্য করে এই সংস্থা ৷ দেশ থেকে এত দূরে থাকলেও ভারতের সঙ্গে কোনওদিন মানসিক দূরত্ব বাড়তে দেননি ৷ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অথবা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সুস্পর্কের কথা সর্বজবিদিত ৷ ইংল্যান্ড গেলে ভারতের বহু বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতারাই তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন ৷ কয়েক বছর আগে বাংলায় বিনিয়োগ করবেন বলে মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছিলেন ব্রিটিনের সংসদের উচ্চকক্ষের এই প্রবীণ সদস্য ৷ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর সংস্থা কাপারো ৪০টি দফতর আছে ৷ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে শুরু করে ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজের দফতর তৈরি করেছিলেন এই প্রয়াত শিল্পপতি ৷ কাপারো ইন্ডিয়ার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ছেলে আকাশ পাল ৷ লর্ড স্বরাজ পলের জন্ম ১৯৩১ সালে ৷ বাবা পেয়ারে লাল ছিলেন ব্যবসায়ী ৷ স্টিলের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির কারখানা ছিল তাঁর ৷ জলন্ধরে প্রাথমিক পঠনপাঠনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন লাহোরে ৷ সেখানকার ফরমান খ্রিস্টান কলেজে পড়া শেষ করে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চলে যান আমেরিকা ৷ ম্য়াসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ডিগ্রিও পান ৷ পড়া শেষে দেশে ফিরে এসে বাবার তৈরি এপিজে গ্রুপে দুই ভাই সত্য পল এবং জিৎ পলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন ৷ ১৯৬৬ সালে লন্ডনে যাওয়ার বছর দুয়েকে মধ্য়ে পথচলা শুরু করে তাঁর সংস্থা ৷ সেই থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ক্রমশ ব্যবসা বাড়তে থাকে কাপারোর ৷ তবে তারপর ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে ৷ এরইমধ্যে ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর তাঁর বড়ছেলে অঙ্গদ পালের মৃত্যু হয় ৷ তদন্তকারীদের সন্দেহ নিজের আবাসনের আটতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিয়েছিলেন অঙ্গদ ৷ কর্মজীবনে একাধিক বড় দায়িত্ব সামলেছেন ৷ পেয়েছেন বহু আন্তর্জাতিক সম্মানও ৷ একসময় ইংল্যান্ডের বিদেশ নীতি তৈরি সংক্রান্ত একটি পরামর্শদাতা কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছিলেন ৷