এখন থেকে আর চার নয়, পরিবর্তে শুধু ২টি হারে জিএসটি(GST) নেওয়া হবে ৷ নতুন স্তরে জিএসটি হবে ৫ এবং ১৮ শতাংশ ৷ অর্থাৎ জিএসটি’র পুর্নবিন্যাসে ১২ এবং ২৮ শতাংশের স্ল্যাব তুলে দেওয়া হচ্ছে । কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া প্রস্তাবে সায় দিল মন্ত্রিগোষ্ঠী ৷ ১৫ অগস্ট লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণে এমনই ইঙ্গিত মিলেছিল ৷ পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে মোদি সরকার ৷ দীপাবলির আগেই নতুন জিএসটি ব্যবস্থা চালুও হয়ে যাবে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ৷ বৃহস্পতিবার ছয় সদস্যের মন্ত্রিগোষ্ঠীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বৈঠক হয় । পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবে সায় দেয় মন্ত্রিগোষ্ঠী (গ্রুপ অফ মিনিস্টারস বা জিওএম)। জানা গিয়েছে ওই বৈঠকে ছিলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্য বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থান থেকে একজন করে মন্ত্রী ও বিরোধী শাসিত রাজ্য কর্ণাটক (কংগ্রেস), কেরল (বামফ্রন্ট) এবং পশ্চিমবঙ্গ (তৃণমূল) থেকে এক জন করে সদস্য ছিলেন ৷ জিএসটি সংস্কারের এই প্রস্তাব এর পর জিএসটি কাউন্সিলে যাবে । আগামী সেপ্টেম্বরে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে । বর্তমানে, পণ্য ও পরিষেবা করে ৫, ১২, ১৮, ২৮ শতাংশের কাঠামো রয়েছে । এদিন ছয় সদস্যের মন্ত্রিগোষ্ঠীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়, এখন থেকে চারের পরিবর্তে শুধু ২টি হারে (৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ ) জিএসটি নেওয়া হবে ৷ অর্থাৎ ১২ এবং ২৮ শতাংশের জিএসটি হার তুলে দেওয়া হচ্ছে । আর তার সঙ্গে কিছু জিনিসের দাম কমতে পারে বলে জানা যাচ্ছে । তবে পৃথক বন্দোবস্ত থাকছে ক্ষতিকর এবং অতিজাত্য পণ্যের ক্ষেত্রে । এই তালিকায় থাকতে পারে মদ, সিগারেট, বিলাসবহুল গাড়ি প্রভৃতি । এই সমস্ত পণ্যে সরকার সর্বোচ্চ 40 শতাংশ কর নেবে বলে ঠিক করেছে । মন্ত্রীরা কেন্দ্রেয় এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন । ছয় সদস্যের মন্ত্রিগোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরি। বৈঠকের পর তিনি বলেন, “১২ এবং ২৮ শতাংশ স্ল্যাব অপসারণের প্রস্তাব গ্রহণ হয়েছে ৷ কেন্দ্রের প্রস্তাব জিওএম গ্রহণ করেছে । উত্তরপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী সুরেশ কুমার খান্না বৈঠকে জানান, কেন্দ্রের প্রস্তাবে অতি বিলাসবহুল এবং ক্ষতিকারক পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ কর আরোপ করার কথা আলোচনা হয়েছে ৷ তা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ।” তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বৈঠকে বলেন, জিএসটি সংস্কারের ফলে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির রাজস্ব আদায় কতটা কমবে, কতটা রাজস্ব ক্ষতি হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রের প্রস্তাবে কিছু বলা হয়নি ৷