পানীয়ে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে ১৭ বছরের কিশোরীকে বেহুঁশ করে অন্ধ্রপ্রদেশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ ৷ তারপর তেলেঙ্গানার মন্দিরে ফেলে রেখে পালাল দুষ্কৃতীরা ৷ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিতা ৷ নির্যাতিতা অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সীতারামরাজু জেলার বাসিন্দা ৷ পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে সে ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় তার মাসির বাড়িতে গিয়েছিল । ২২ অগাস্ট অর্থাৎ শুক্রবার সে মাসির বাড়ি থেকে ফেরার জন্য কুন্তা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয় ৷ কিন্তু বাড়ি ফেরার বাস ধরতে ব্যর্থ হয় । সেসময় দু’জন লোক নিয়ে একটি অটো সেখান থেকে যাচ্ছিল, তারা নাবালিকাকে পৌঁছে দেবে বলে ৷ সেই মতো কিশোরী ওই অটোয় ওঠে ৷ অভিযোগ, ওই দুষ্কৃতীরা তাকে অন্ধ্রপ্রদেশের চিন্তুর মণ্ডলের চাট্টি এবং এদুগুরুলাপল্লির মাঝামাঝি একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় । সেখানে তারা তাকে একটি নেশাজাতীয় দ্রব্য মেশানো ঠান্ডা পান করার জন্য জোর করে ৷ নাবালিকা সেটি পান করার পরই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে ৷ তারপর ওই দুই ব্যক্তি তাকে গণধর্ষণ করে এবং রাতে তেলেঙ্গানার ভদ্রদ্রি কোঠাগুদেম জেলার একটি মন্দিরে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ ৷ স্থানীয় বাসিন্দারা নাবালিকাকে দেখতে পেয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান । তার অবস্থা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে চিকিৎসকরা চাইল্ডলাইন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান ৷ পরবর্তীতে নির্যাতিতাকে সেখান থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিক করা হয় ৷ এই ঘটনায় ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (আইসিডিএস) এর শিশু উন্নয়ন প্রকল্প কর্মকর্তা (সিডিপিও) প্রসন্নকুমারী একটি অভিযোগ দায়ের করেন ৷ তার ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পালভাঞ্চা শহর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে ৷ পরে মামলাটি অন্ধ্রপ্রদেশের চিন্তুর থানায় স্থানান্তরিত করা হয় ৷ কারণ গণধর্ষণের ঘটনাটি ওই থানার এলাকায় মধ্যে ঘটেছে ৷ পুলিশ এবং চাইল্ডলাইনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নির্যাতিতাকে শীঘ্রই তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করানো হবে ৷ কিশোরীর বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে । তবে এই ঘটনাটি আদিবাসী সমাজে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে ৷ আদিবাসী মেয়েদের উপর নির্যাতন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে । এদিকে অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

